সংগীতে তপন চৌধুরীর ৫০ বছর
তপন চৌধুরী। ফাইল ছবি
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা গানের ভুবনে পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলা আগেই পূর্ণ করেছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী তপন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে সংগীত জগতে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বতন্ত্র গায়কি, দরদমাখা কণ্ঠ ও জনপ্রিয় গানের মধ্য দিয়ে শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর সংগীতজীবনের এই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এবার বিশেষ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী এই শিল্পীর ৫০ বছরের সংগীতযাত্রা উদযাপনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে কানাডার টরন্টোতে। আগামী ১২ ডিসেম্বর সেখানে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তপন চৌধুরীর সংগীতজীবনের ৫০ বছরের পথচলা উৎসব’।
যৌথভাবে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে রূপতনু মিউজিক একাডেমি ও টরন্টো ঢাকা ক্লাব। দীর্ঘ সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই মাইলফলক উদযাপন নিয়ে উচ্ছ্বসিত তপন চৌধুরী। টরন্টোর আয়োজনের পর বাংলাদেশেও তাঁর সংগীতজীবনের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে প্রবাসের পাশাপাশি দেশের শ্রোতাদের সঙ্গেও এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের অর্জন সম্পর্কে তপন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভক্ত-শ্রোতাদের অন্তহীন ভালোবাসা এবং গুণীজনদের আশীর্বাদই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি।’ তাঁর কাছে
সংগীতজীবনের সাফল্য কেবল জনপ্রিয়তা কিংবা অসংখ্য গান গাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শ্রোতার ভালোবাসা ও সহশিল্পীদের আন্তরিকতাও এই দীর্ঘ পথচলার অন্যতম প্রাপ্তি।
এই সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তপন চৌধুরীর ভাষ্য, ‘রূপতনু মিউজিক একাডেমি ও টরন্টো ঢাকা ক্লাবের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে এই সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।’ আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে তিনি বিশেষভাবে মূল্যায়ন করছেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের নেপথ্যে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, ‘আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নেপথ্যের সব শুভানুধ্যায়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি, সবার অংশগ্রহণে আয়োজনটি সফল হবে।’
তপন চৌধুরীর সংগীতজীবনের ৫০ বছর পূর্তির আয়োজন অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার ঢাকা ক্লাবে তাঁর সংগীতজীবনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। সেই আয়োজনের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বহু প্রথিতযশা সংগীত ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে ছিলেন রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আলাউদ্দিন আলী ও আইয়ুব বাচ্চু। গুণী শিল্পীদের উপস্থিতি সেদিনের আয়োজনকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল।
সেই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তপন চৌধুরী বলেন, ‘৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনদের আন্তরিক উপস্থিতিতে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম। বিশেষ করে, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা আমাকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছিল। শিল্পীর কাছে এ ধরনের ভালোবাসা ও সম্মান দীর্ঘ সংগীতজীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা বলে মনে করি।’ এবারের টরন্টো উৎসবেও দর্শক-শ্রোতার জন্য থাকছে তাঁর জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে তপন চৌধুরী ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘এ এমন পরিচয়’, ‘দিন কি রাতে’, ‘কান্দো কেনে মন’, ‘কত কাঁদলাম’, ‘আজ ফিরে না গেলেই কি নয়’, ‘আমি সবকিছু ছাড়তে পারি’সহ ১৫টির বেশি গান পরিবেশন করবেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরিচিত ও জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে সাজানো হবে এই পরিবেশনা। দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় তপন চৌধুরী বাংলা গানের শ্রোতার কাছে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিভিন্ন সময়ের শ্রোতার আবেগ, স্মৃতি ও ভালোলাগা। তাই সংগীতজীবনের সুবর্ণজয়ন্তী কেবল একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অর্জন উদযাপনের আয়োজন নয়, বরং তাঁর গান ও সংগীতযাত্রার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ারও উপলক্ষ। এমনটিই মনে করছেন সংগীতবোদ্ধারা।
- বিষয় :
- সংগীতশিল্পী
- তপন চৌধুরী