সাক্ষাৎকার
শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্ত নয়, সম্পর্কের জটিলতাও আছে: তৌসিফ
তৌসিফ মাহবুব। ছবি: ফেসবুক
বুলবুল ফাহিম
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪১ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪৭
তৌসিফ মাহবুব। মডেল ও অভিনেতা। বৃহস্পতিবার আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’। শিহাব শাহীনের পরিচালনায় এতে তিনি অভিনয় করেছেন একজন পাইলটের ভূমিকায়। এই ওয়েব ফিল্ম ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে
সম্প্রতি আপনার জন্মদিন গেল। এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটালেন?
বেশ ভালো কেটেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যেটা খুব ভালো লেগেছে। আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জন্মদিন নিয়ে ভাবনাও বদলায়। এখন নতুন করে কী করতে চাই, কাজের জায়গায় নিজেকে কীভাবে আরও ভালো করা যায়– এসব নিয়েই বেশি ভাবি। সবার ভালোবাসা ও শুভ কামনা নিয়ে নতুন একটা বছর শুরু হলো।
‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নাম শুনলে ক্যাফে বা খাবারকেন্দ্রিক গল্প মনে হতে পারে। এর গল্পটি আসলে কী নিয়ে?
ঠিকই বলেছেন, নাম শুনে অনেকে হয়তো ক্যাফেকেন্দ্রিক কোনো গল্প ভাবতে পারেন। কিন্তু এটি মূলত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সম্পর্কের গল্প। এখানে চারটি আলাদা গল্প রয়েছে। গল্পগুলো আলাদাভাবে এগোলেও একপর্যায়ে এসে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে। শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্ত নয়, সম্পর্কের জটিলতা, ভুল-বোঝাবুঝি, মান-অভিমান– সবই উঠে এসেছে এই গল্পে। আমার মনে হয়, দর্শক নিজেদের জীবনের সঙ্গে মেলানোর মতো অনেক কিছুই এখানে খুঁজে পাবেন। কারণ এখানে শুধু প্রেম নয়, সম্পর্কের জটিলতাও আছে।

এই ওয়েব ফিল্মের কোন দিকটি আপনার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে?
এই ওয়েব সিনেমার গল্প বলার ধরনটি বেশ আকর্ষণীয়। এখানে একটিমাত্র গল্পের মধ্যে সব সীমাবদ্ধ নয়। কয়েকটি গল্প পাশাপাশি এগিয়ে যায়, আবার সেগুলোর মধ্যে যোগসূত্রও রয়েছে। মানুষের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। আমরা সাধারণত প্রেমের গল্প বলতে গেলে ভালোবাসার সুন্দর মুহূর্তগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিই। কিন্তু বাস্তব জীবনে সম্পর্কের মধ্যে অনেক জটিলতা থাকে। মানুষ কখনও ভুল করে, কখনও ভুল বোঝে, কখনও নিজের অজান্তেই প্রিয় মানুষকে কষ্ট দেয়। এসব বিষয়ও গল্পে রয়েছে।
ওয়েব ফিল্মটিতে আপনাকে পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে। চরিত্রটি নিয়ে প্রস্তুতি কেমন ছিল?
পাইলটের চরিত্রে অভিনয় আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। চরিত্রটির সঙ্গে মানানসই করে পোশাক তৈরি করতে হয়েছে। বাংলাদেশের পাইলটদের পোশাকের ধরন লক্ষ করেছি। এরপর সাদা শার্ট, টাই, কালো প্যান্ট, পাইলটের টুপি ও ব্যাজসহ নিজের মাপ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করিয়েছি। পর্দায় একজন পেশাদার পাইলটকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরতে পোশাক-পরিচ্ছদও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
পাইলটের পোশাকে ঢাকার বিমানবন্দরে গিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
বেশ মজার। পাইলটের পোশাকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর অনেকেই আমাকে অভিনেতা হিসেবে চিনতে পারেননি। কেউ কেউ সত্যিকারের পাইলট ভেবে আলাদা সম্মানও দেখিয়েছেন। বিষয়টি আমার কাছে বেশ মজার লেগেছে। সাধারণত মানুষ আমাকে অভিনেতা হিসেবেই চেনেন। কিন্তু পোশাক বদলে যাওয়ায় তাদের চোখে আমার পরিচয়ও বদলে গিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, একজন মানুষের বাহ্যিক উপস্থিতি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

‘ক্যাফে আমব্রেলা’য় প্রেমের পাশাপাশি পরিবার ও দাম্পত্য জীবনের নানা দিকও উঠে আসবে। এ ধরনের গল্প দর্শকের কাছে কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন?
এ ধরনের গল্প সব সময়ই প্রাসঙ্গিক। কারণ সম্পর্ক আমাদের সবার জীবনের অংশ। পরিবার, দাম্পত্য কিংবা ভালোবাসার সম্পর্ক– প্রতিটি ক্ষেত্রেই নানারকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় মানুষ ইচ্ছা করে ভুল করে না, কিন্তু নিজের অজান্তেই এমন কিছু করে বসে, যার প্রভাব অন্য কারও ওপর পড়ে। আবার অনেক সময় ছোট একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকেও বড় সমস্যা তৈরি হয়। এসব বিষয় গল্পে উঠে এলে দর্শক নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে পারেন।
এই ওয়েব সিনেমায় বেশ কয়েকজন নতুন সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে ভালো লাগে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব চেষ্টা, মেধা ও কাজের ধরন রয়েছে। বিদুষী লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এর পেছনে তাঁর চেষ্টা ও যোগ্যতা রয়েছে। নাযাহ ও আমিনার জন্যও আমার শুভ কামনা। নতুনদের কাজের সুযোগ পাওয়া এবং নিজেদের প্রমাণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমারও ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।
এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, আপনার বেশির ভাগ নাটকের ভিউ কোটির ঘর ছাড়ায়। দর্শকের এত সাড়া পাওয়ার পেছনে কী রহস্য?
রহস্য না বলে এটাকে সচেতন সিদ্ধান্ত বলাই ভালো। একটা সময় অনেক কাজ করার ব্যস্ততা ছিল। এখন তুলনামূলক কম কাজ করার চেষ্টা করি। তবে প্রতিটি কাজের পেছনে আগের চেয়ে বেশি সময় ও মনোযোগ দিই। এখানে একটা দায়বদ্ধতার বিষয়ও আছে। আমার কাছে এখন কাজের সংখ্যার চেয়ে কাজটি কেমন হলো, চরিত্রটি আমাকে কতটা নতুনভাবে তুলে ধরতে পারল এবং দর্শকের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারল– সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকও সহজেই বুঝতে পারেন, কোনো কাজ কতটা মনোযোগ দিয়ে করা হয়েছে। তাই হয়তো কাজের সংখ্যা কমেছে, কিন্তু কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাছবিচার ও দায়িত্ববোধ বেড়েছে। এর বাইরে কোনো রহস্য নেই।
ওটিটি ও সিনেমা নিয়ে ভাবনা?
ওটিটির কাজ অনেক সাজানো গোছানো ও বড় মাপের। এরমধ্যে কিছু কাজ করেছি। দারুণ সাড়াও পেয়েছি। এই প্ল্যাটফর্মের জন্য নিজেকে আরও প্রস্তুত করছি। এ ছাড়া সিনেমা নিয়ে বৃহৎ ভাবনা আছে। ধীরে ধীরে সেখানে প্রবেশ করতে চাই।

পরিণত ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের পরিকল্পনা কি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা?
হ্যাঁ, আমি সচেতনভাবেই চেষ্টা করছি একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থাকতে। প্রতিটি চরিত্রে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। তাই ভিন্নতা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে যেমন গল্প আমি করতে চাই তেমন গল্পই তো পছন্দ করি। এটা বজায় রাখব।
অভিনয়ে নিজের দায়বদ্ধতার বিষয়টি কতটা মনে রাখেন?
অনেক কষ্ট করে আমরা একটি কাজ করি। দর্শকও সেটা সময় নষ্ট করে দেখেন। অভিনয়শিল্পী হিসেবে সেখানে আমাদেরও কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। এত কষ্ট করে কাজ করার পর দর্শক যদি কিছু না পায়, সেখানে আমাদের সার্থকতা থাকে না। তাই দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার কথা মাথায় রেখে কাজ করছি। যে গল্পে দর্শকের জন্য কোনো বার্তা নেই, সে গল্পে কাজ করতে চাই না।
কাজের ক্ষেত্রে সংখ্যা ও ভিউয়ের বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
কাজের ক্ষেত্রে আমি সবসময় সংখ্যার চেয়ে এখন মানের দিকে বেশি খেয়াল করি। একটা সময় একক নাটকের পেছনে ২-৩ দিন সময় দিলেও এখন কোনো কোনো নাটকের পেছনে ১০ থেকে ১২ দিনও সময় দিয়ে কাজ করি। ফলে প্রায় সবগুলো কাজই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। ভালো গল্প ও অভিনয় হলে সেটার ভিউ এমনিতেই হবে। তাই ভালো কাজ করে যেতে চাই।
- বিষয় :
- তৌসিফ মাহবুব
- নাটক
- ওটিটি প্লাটফর্ম
- সিনেমা