ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১-এর মুকুট জিতলেন ছোঁয়া

মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১-এর মুকুট জিতলেন ছোঁয়া
×
×

কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া। ছবি:সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:১০ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:১৩

নারী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও বহুমুখী প্রতিভাকে তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া। রাজধানীর একটি হোটেলে ৩১ অক্টোবর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে বিজয়ের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী নাবিলা তোরা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ডা. রিফা তামান্না।

আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নারী চিকিৎসকদের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণ তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী চিকিৎসকেরা এতে অংশ নেন।

বিজয়ের মুহূর্তটি ডা. ছোঁয়ার কাছে ছিল ভীষণ আবেগের। মুকুট মাথায় নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েও যেন নিজের অর্জন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। সেই মুহূর্তে বারবার বাবার মুখ ভেসে উঠছিল তাঁর চোখের সামনে। বাবা পাশে থাকলে হয়তো মেয়ের সাফল্যে গর্বে বুক ভরে উঠত তাঁর। তাই বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্টও অনুভব করেছেন ছোঁয়া। প্রতিযোগিতায় সফলতার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শো ডিরেক্টর সাকিব সনেট এবং শোয়ের সিইও ও অর্গানাইজার ড. হাসান মাহমুদের প্রতি।

খুলনার মেয়ে কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া ২০২৫ সালে রাশিয়ার রস্তভ স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে রয়েছে শিল্পীসত্তা। অভিনয়, গান, নাচ ও ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনার সময়ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। দেশের বাইরে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন।

ছোঁয়ার ভাষায়, ‘আমার কেন যেন মনে হতো, আমার ভেতরে একটা শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে। যে কারণে সংস্কৃতির প্রতি আমার একটা আলাদা টান অনুভব করি। আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে, গাইতে ভালো লাগে, নাচতে ভালো লাগে। ছবি আঁকতেও ভালো লাগে।’ছোঁয়ার পারিবারিক জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর বাবা জি এম কামরুল হুদা একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু দেড় বছর আগে স্ট্রোক করার পর থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। মা ফিরোজা হুদা। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোট ভাই তানজিমকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ববোধও রয়েছে তাঁর কাঁধে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ছোঁয়া জানান, চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানুষের নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীল পরিচয় বিকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন ছোঁয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত হতে চান তিনি। আর সে লক্ষ্যেই  এগিয়ে চলছেন এই চিকিৎসক। 
 

আরও পড়ুন

×