ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

গালিগালাজ করে সাংবাদিকদের ফোন কেড়ে নিলেন পরীমণি, দেহরক্ষীর মারধরে আহত ৪

গালিগালাজ করে সাংবাদিকদের ফোন কেড়ে নিলেন পরীমণি, দেহরক্ষীর মারধরে আহত ৪
×
×

আদালতে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন পরীমণি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৫ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:৩২

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। এ সময় তার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের আঘাতে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন এবং বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগেছে। ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। আদালত চত্বরে দায়িত্ব পালনের সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন অভিনেত্রী পরীমণি। পরে তার হাত থেকে ফোনটি ফিরিয়ে নেন রাজু। 

আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেনের অভিযোগ করেছেন, আদালতে আত্মসমর্পণ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যান পরীমণি, অশ্লীলভাষায় গালাগাল দেন। এক পর্যায়ে পরীমণি তার হাতে খামচি দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক সিয়াম।

আহত সুজন চন্দ্র

এরআগে, সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছেন পরীমণি। আদালতের কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে অবস্থান করেন তিনি। তখন তাকে ঘিরে রাখেন নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপর আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও উৎসুক লোকজন ভিড় করেন। এই ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মীদের বেস্টনিতে এগিয়ে যান পরীমণি। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে এজলাসে নিয়ে যান। লিফটে ওঠার সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। ঠিক এই সময় সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমণি। পরে পরীমণির হাত থেকে টান দিয়ে ফোনটি ফিরিয়ে নেন রাজু।

রবিউল হোসাইন রাজু বলেন, ‘পরীমণি আদলতে এলে আমরা সংবাদিকরা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করি। লিফটে ওঠার সময় উত্তেজিত হয়ে পরীমণি আমার ফোনটি কেড়ে নেন । ওই ফোনে আমি ভিডিও ধারণ করছিলাম। পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা এ সময় আমার ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন।'

পরে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে যান পরীমণি। আদালতের বেঞ্চে বসে থাকা পরীমণি আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় পরীমণির জামিন মঞ্জুর করেন। 

জামিন নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণিকে ঘিরে রাখেন তার নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে গেলে আবার তারা ধাক্কাধাক্কি করেন। তাদের ধাক্কাধাক্কিতে আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্রের মাথা ফেটে যায়। তার মাথা থেকে তখন রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়।

নিচে এসে গাড়িতে ওঠার আগে আবার সমকালের রবিউল হোসাইন রাজুর দিকে তেড়ে যান পরীমণি। এ সময় সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন তিনি।

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পরীমণির ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের শিকার হয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার। আশিকুজ্জামান জানান, পরীমণির নিরাপত্তারক্ষীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক বলেন আব্দুল্লাহ আল কাউছার, 'আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আমিসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন। একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটেছে। অথচ পুরো ঘটনা চলাকালে দায়িত্বে থাকা কোর্ট পুলিশের সদস্যদের ভূমিকা দেখা যায়নি। একজন আসামি প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে এসে যেভাবে মহড়া দিলেন এবং সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করলেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীর এমন দাপট দেখানোর সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো- সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। ঘটনাটি তদন্তেরও দাবি জানান। 

ঘটনার পর দুপুর একটা ৪৩ মিনিটে পরীমণির সঙ্গে কথা বলে সমকাল। পরীমণি অভিযোগ করেন, ভিড়ের মধ্যে সাংবাদিকরা তার গায়ে পড়ার চেষ্টা করেন। আদালত থেকে বেরিয়ে তাদের দেখা পান।

তবে সমকালের রাজু বলেন, ‘এ ধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পরীমণির সঙ্গে আমার দূরত্ব ছিল অনেক। সেখানকার ভিডিও দেখলেই সব পরিষ্কার হবে। শুধু আমার কেড়ে নেওয়া ফোনটি তার হাত থেকে নিয়েছি।’

২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। আদালত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন। তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হতে সমন জারি করেন। ওই দিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তারা।

এরপর ২৭ মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন দায়ের করেন এ চিত্রনায়িকা। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাজ্জাদুর রহমান খান আবেদন খারিজ করে দিয়ে মামলা চলতে কোনো বাধা নেই বলে আদেশ দেন।

আরও পড়ুন

×