পিসিওএস (পিএমওএস) প্রতিরোধে সমন্বিত চিকিৎসা জরুরি
সেপ্টেম্বর পিসিওএস (পিএমওএস) সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত ‘পিসিওএস (পিএমওএস): জানুন, সচেতন হোন এবং প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা -সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪১ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) বা পিএমওএস শুধু সন্তান ধারণের সমস্যা নয়; বয়ঃসন্ধিকাল থেকে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। রোগটিকে শুধু গাইনি সমস্যা হিসেবে না দেখে হরমোন, বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর সমকাল সভাকক্ষে ‘পিসিওএস (পিএমওএস): জানুন, সচেতন হোন এবং প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া ও সমকাল যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগী ছিল রেনাটা পিএলসি
অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম
সভাপতি
দক্ষিণ এশিয়ায় পিসিওএসের প্রকোপ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। কিশোরীদের মধ্যে এর হার ৬ থেকে ৮ শতাংশ। এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেশেও অনেক বেশি। এ রোগ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ ভালোভাবে জানে না। ফলে সচেতনতার অভাবে অনেক নারী কিংবা কিশোরী ভুল চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ শুরুতে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা গেলে অনেক ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পিসিওএসের কারণে যাদের সন্তান হচ্ছে না, তাদের সাধারণত ডিম্বাণুগুলো ম্যাচিউর হয় না। কারও হয়তো দুই-তিন মাস পর মাসিক হচ্ছে; তিনি ভাবছেন গর্ভধারণ করেছেন। বাস্তবতা সেটি নয়। দীর্ঘ সময় মাসিক না হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রজননক্ষম বয়সে দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকার সঙ্গে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও রয়েছে। পিসিওএস রোগীর আইভিএফ প্রয়োজন হলে প্রথমে ওজন কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ওজন কমলে অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা কমতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। এর ফলে ডিম্বাণুর ওপর হরমোনের বিরূপ প্রভাবও কমতে পারে। এতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়বে।
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম
পিসিওএসকে শুধু ডিম্বাশয়ের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ রোগের সঙ্গে হরমোন ও বিপাকীয় পরিবর্তন জড়িত। অনেক স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরী মাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কাছে আসে। মেয়ের আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে ওভারিতে পরিবর্তন দেখে মায়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গ্রামাঞ্চলে অনেক ক্ষেত্রে পিসিওএসকে ‘টিউমার’ মনে করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রবণতা দেখা যায়। পিসিওএস থাকলেই সন্তান হবে না এমন ধারণাও ভুল।
এ রোগে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা ও ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা হতে পারে। তবে যথাযথ চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সন্তান ধারণ সম্ভব। পিসিওএস শুধু মাসিকের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; অনেক কিশোরী ও তরুণীর মুখে অবাঞ্ছিত লোম, ব্রণ ও ত্বকের দাগ দেখা যায়। এসব নিয়ে অনেকে সামাজিকভাবে বিব্রত ও লজ্জিত থাকে। স্কুলে সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হওয়ার কথাও রোগীরা তাঁকে জানিয়েছেন। এসব রোগীর কাউন্সেলিং প্রয়োজন। পিসিওএসের চিকিৎসায় দ্রুত কোনো পদ্ধতি বেছে না নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার
পিসিওএস এখন বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এর প্রভাব থাকতে পারে। শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। সরকারের উচিত পিসিওএস নিয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা করা এবং রোগটির একটি জাতীয় রেজিস্ট্রি চালু করা। যেভাবে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, পিসিওএসের ক্ষেত্রেও তথ্যভান্ডার তৈরি করা প্রয়োজন। পিসিওএস একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। তাই স্ত্রীরোগ, হরমোন, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞের সমন্বিত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একাধিক বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে গিয়ে রোগীর নিজের পকেট থেকে ব্যয় বেড়ে যায়। সরকারের দায়িত্ব হলো এমন ব্যবস্থা করা, যাতে রোগীর চিকিৎসার ব্যয় কমে এবং প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য হয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকা কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ কর্নারে পিসিওএস বিষয়ে পরামর্শ ও সেবা যুক্ত করা যেতে পারে। পিসিওএস নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কারিকুলামেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ডা. তাসবিরুল ইসলাম
পিসিওএস (পিএমওএস) কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত শারীরিক বা মানসিক উদ্বেগ নয়-এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি নারীদের হরমোনজনিত একটি জটিল সমস্যা; যা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। লোকলজ্জা ও সংকোচ কাটিয়ে পিসিওএসের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে পরিবারে এবং সামাজিক স্তরে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এতে নারীর মনের মধ্যকার ভুল ধারণা ও সংকোচ যেমন কমবে, তেমনই তারা সঠিক সময়ে তাদের সমস্যা আলোচনার সাহস পাবে। লোকচক্ষুর ভয়ে চুপ না থেকে, চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাদ্যগ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নারীকে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে পিসিওএস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সামাজিক সহযোগিতা ও সঠিক সচেতনতা পারে নারীকে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।
ডা. শাকিল ফরিদ
পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিএমওএস) সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসক, পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল নারীর কোনো ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যা নয়, বরং একটি হরমোনজনিত জটিলতা। তাই অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য উপসর্গকে সামান্য অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের সমাজে অনেক নারী লোকলজ্জার ভয়ে এ সমস্যাগুলো লুকিয়ে রাখেন, যা পরবর্তী সময়ে বন্ধ্যাত্ব বা ডায়াবেটিসের মতো ঝুঁকি তৈরি করে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য এবং পরিবারের সহানুভূতিশীল সহযোগিতা নারীর দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করতে পারে। এ আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করি। সুস্থ ও সুন্দর আগামী নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ উদ্যোগে পিসিওএস প্রতিরোধে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম
রিপ্রোডাক্টিভ এজ গ্রুপের মেয়েরা যাদের অনেক মাস ধরে মাসিক হচ্ছে না, আলটিমেটলি যেটি এটির একটি মেটাবলিক ইনফ্লুয়েন্সের জন্য এন্ডোমেট্রিয়াল কার্সিনোমাও ডেভেলপ করতে পারে। কাজেই আমাদের সচেতনতা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা জানি যে এখানে এই পিসিওএস ইনফার্টিলিটিতে যারা সাফার করে, তাদের এগুলো ম্যাচিউর হয় না; যেটি হওয়া উচিত। প্রতি মাসে ওভারি থেকে অন্তত একটা করে এগ নিঃসরণ হবে, সেটি না হলে কিন্তু তার প্রেগন্যান্সিটা আসে না। এখন কেউ হয়তো মনে করে দুই-তিন মাস পরপর মাসিক হচ্ছে, সে মনে করছে আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আসলে সে প্রেগন্যান্ট নয়। এই হরমোনের কারণে তার মাসিকটা বন্ধ হয়ে আছে। আবার আমি যদি পেরি-মেনোপজের কথা বলি, সেখানে যেমন ডায়াবেটিসের রিস্ক আছে, সেটিও কিন্তু আমাদের এই সময় মনে করিয়ে দিতে হবে। কাজেই আমরা চাইব সবাইকে যেন সঠিক তথ্য দেওয়া হয়, যাতে প্রত্যেক নারী এ বিষয়ে সচেতন হন; রোগের সুচিকিৎসা নিয়ে যেন ভালো থাকেন।
অধ্যাপক ডা. শেখ জিন্নাত আরা নাসরীন
মায়ের গর্ভে যখন ভ্রূণ তৈরি হয় তখন থেকে পিসিওএস দেখা দিতে পারে এবং বংশপম্পরায় চলতে থাকে। কোনো সময়ে নারীর জীবন থেকে পিসিওএসকে আমরা সরাতে পারি না। এ রোগটি আজীবনের রোগ। যে কোনো সময় হতে পারে। মেনোপজে পিসিওএস হওয়ার শঙ্কা কম। পিসিওএস রোগীর গ্রুপ তিন ধরনের হতে পারে। একটা হতে পারে নর্মো-রেসপন্ডার, মানে কোনো কিছুই লাগে না, একটা লাইফস্টাইল পরিবর্তন করল, বাচ্চা হয়ে যায়। কিছু আছে কিন্তু হাইপার-রেসপন্ডার; মানে সামান্য ওষুধ দিলেন। তাদের সমস্যা ডিম্বাণু। সামান্য ওষুধেই তার ডিম্বাণু অনেক বড় হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘হাইপার স্টিমুলেশন সিনড্রোম’ নামে খুবই বিপজ্জনক এবং মারাত্মক একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ১ শতাংশ রোগী কিন্তু
আইসিইউতে চলে যায়, মারাও যায়। কাজেই এ ধরনের রোগীকে খুবই সতর্কভাবে এবং যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে ওষুধ দিতে হয়। ইনজেকশন দিতে হয়। তাদের ডিম্বাণুগুলোকে ম্যাচিউর করতে হয়।
অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি
পিসিওএস নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। আলট্রাসনোগ্রাফিতে সিস্ট লিখে দিলেই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে; বিশেষ করে ছোট মেয়েরা। তখন সবাই মনে করে এই সিস্টের চিকিৎসা আগে করাতে হবে। আসলে ওজন বাড়া থেকে শরীরে মেটাবলিক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে কিশোরীদের মাসিক শুরুর পর থেকে। ওবেসিটির কারণে পিসিওএস হতে পারে। তবে স্থূলকায় হলেই যে পিসিওএস হবে তা কিন্তু নয়। পিসিওএস রোগীদের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়। ওভারিয়ান সেলেও এন্ড্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ এন্ড্রোজেনই অবাঞ্ছিত লোমের জন্য দায়ী। এর ফলে ইনফার্টিলিটির ঝুঁকি বাড়ে। এ ধরনের অধিকাংশ রোগী কোন ধরনের বিশেষজ্ঞের কাছে যাবে বুঝতে পারে না। এ জন্য চিকিৎসায় রেফারেল পদ্ধতি প্রয়োজন। তাহলে রোগীর চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি কমবে। এ জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রস্তুত করা যেতে পারে। এটা অনুসরণ করে সবাই চিকিৎসা দেবেন। আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পিসিও কর্নার শুরু করতে চাই, যেখান থেকে এ ধরনের রোগী বিশেষায়িত সেবা পাবে।
ডা. শারমিন আব্বাসি
মডারেটর
সেপ্টেম্বর হচ্ছে পিসিওএস সচেতনতা মাস। বিশ্বজুড়ে ‘অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করা, চিকিৎসা ও সেবার সুযোগ সম্প্রসারিত করা’ থিমে মাসটি পালিত হচ্ছে। পিসিওএস শুধু হরমোনাল সমস্যা নয়; এটি নারীর মাসিক, প্রজনন ক্ষমতা, ওজন, ত্বক এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেকে মনে করেন মাসিক অনিয়মিত হলে কিংবা আলট্রাসনোগ্রামে ওভারিতে সিস্ট দেখা গেলে পিসিওএস নিশ্চিত। আর কখনও সন্তান ধারণ সম্ভব নয়। এটি ভুল ধারণা। পিসিওএসের কারণ, লক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূল ও গ্রাম পর্যায়ের নারীর কাছে পিসিওএস সম্পর্কে সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। পিসিওএস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে।
ডা. এফ. এম. এনামুল হক
পিসিওএস মানে বন্ধ্যাত্ব নয়। অনেক নারীর পিসিওএস থাকলেও তারা বিষয়টি জানেন না এবং সন্তান ধারণ করছেন। কিছু পিসিওএস রোগী আছেন সাইকেল অ্যাবনরমাল, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স অনেক বেশি, হরমোনাল ইমব্যালান্সও বেশি–এ ধরনের রোগী কিন্তু খুব বেশি নয়। আলট্রাসনোগ্রামে দেখা গেল অনেক সিস্ট আছে। এটা তো স্বাভাবিক। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ওভুলেশন ইনডিউসিং ওষুধ বা ইনজেকশন নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোমের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। ছয় মাস টানা ওষুধ লিখে দেওয়া আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। প্রতিটি মাসিক চক্রে ডিম্বাণুর পরিপক্বতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া উচিত। পিসিওএস আক্রান্ত সব রোগীর আইভিএফের প্রয়োজন হয় না। মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আইভিএফের প্রয়োজন হতে পারে।
ডা. মির্জা মো. আসাদুজ্জামান
পিসিওএস থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে এ ঝুঁকি এখনও সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। বিশেষ করে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার বা অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পিসিওএস ঝুঁকি বাড়ায় এমন নির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। পিসিওএস রোগীদের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার প্রতিরোধে অনিয়মিত মাসিকের চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ওজন এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। মেনোপজের পর রক্তপাত হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একইভাবে পেলভিস, কোমর বা তলপেটে ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পিসিওএস আক্রান্ত মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আইভিএফের প্রয়োজন হতে পারে।
অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম
দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি তিনজনে একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। ফ্যাটি লিভার মূলত একটি এন্ডোক্রাইন রোগ, যা থাকলে নারীর পিসিওএস বা সিস্টের ঝুঁকি বাড়ে। তাই জরায়ুর আলট্রাসনোগ্রাম করার সময় লিভারের অবস্থাও জেনে নেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিসের মতো পিসিওএস রোগীর ক্ষেত্রেও নিয়মকানুন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। রোগী নিজে সচেতন না হলে শুধু চিকিৎসকের পক্ষে রোগ নিরাময় করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ওজন কমানোর বিভিন্ন ইনজেকশন বা ওষুধ পাওয়া যাবে। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের ইনজেকশন গ্রহণ বন্ধ করার অন্তত তিন মাস পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত। সামগ্রিকভাবে পিসিওএস চিকিৎসার জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। রোগী যেন সঠিক চিকিৎসা এবং পরামর্শ পায় সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য রোগী, অভিভাবক থেকে শুরু করে চিকিৎসকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
আমি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলব পিসিওএস শব্দ যে ব্যবহার করছি, এটির সঙ্গে আমরা তিনটি বিষয় যুক্ত করতে চাই। নিউরো বায়োলজিক্যাল ডিজফাংশন (মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ত্রুটি), অ্যাটিপিক্যাল ডিজরেগুলেটরি ইটিং ডিজঅর্ডার (অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস) এবং সাইকোলজিক্যাল কোমরবিডিটি (একইসঙ্গে একাধিক মানসিক সমস্যা)। পিসিওএস রোগীরা মুড ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেশন, অ্যাঙ্গজাইটি, ওসিডি (শুচিবাই), সোমাটিক ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। পিএমওএস রোগীর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের মধ্যে এ ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা যায় আর ৫৩ শতাংশ রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস দেখা যায়। শিশু থেকে শুরু করে মেনোপেজ পর্যন্ত এটা কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। এসব রোগীর সঠিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন। এখানে মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ হওয়া উচিত।
ডা. ফারিয়া আফসানা
পিসিওএস রোগের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে চর্বির অস্বাভাবিকতার মতো বিপাকীয় সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। পুরোনো ধারণায় আলট্রাসনোগ্রামে ‘পলিসিস্টিক ওভারি’ দেখা গেলে রোগ নির্ণয়ের প্রবণতা ছিল। কিন্তু ডিম্বাশয়ের প্রকৃত সিস্ট এবং অপরিণত ফলিকলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেজন্যে আলট্রাসনোগ্রাম দেখে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত জীবনযাপনে পরিবর্তন–সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। এসবের পরও প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। ১২ বছরের আগে ওজন কমানোর ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। ১২ বছর থেকে সিমাগ্লুটাইড এবং ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সে টিরজেপাটাইড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব ওষুধ ব্যবহারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান জরুরি।
ডা. তাসনীম খাঁন
অনেক রোগী শুধু অবাঞ্ছিত লোম বা ব্রণের চিকিৎসা চান। কিন্তু পিসিওএস থাকলে রোগটির মূল কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা জরুরি। শুধু লেজার বা কোনো একটি ওষুধ ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান হবে না। পিসিওএসের কারণে ব্রণ, অবাঞ্ছিত লোম, চুল পড়া বা ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যাকে শুধু সৌন্দর্যগত সমস্যা হিসেবে দেখলে মূল রোগের চিকিৎসা বাদ পড়ে যেতে পারে। অবাঞ্ছিত লোমের কারণ সবসময় হরমোনজনিত নয়। হরমোনজনিত কারণ থাকলে প্রথমে গাইনি বা এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সেটির চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী লেজার করা যেতে পারে। হরমোনজনিত কারণে অবাঞ্ছিত লোমের ক্ষেত্রে একাধিক লেজার সেশন প্রয়োজন হতে পারে এবং পরবর্তী সময়েও তা ফিরে আসার শঙ্কা থাকে। নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এ ধরনের সেবা নেওয়া উচিত।
সাবিনা স্যাবি
নারীস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অন্যতম দায়িত্ব হলো পিসিওএস সম্পর্কে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। রোগের বিভিন্ন উপসর্গ সম্পর্কে না জানায় অনেক নারী হতাশা, বিষণ্নতা ও উদ্বেগে ভোগেন। এর প্রভাব পরিবারেও পড়ে। তাই রোগীকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সহানুভূতিশীল হতে হবে। পিরিয়ড ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য নিয়ে স্কুল পর্যায় থেকে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পিসিওএসসহ নারীস্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি বেশি। গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু সচেতনতা তৈরি করলে হবে না, মানুষ সচেতন হয়ে চিকিৎসা নিতে এলে সেই চিকিৎসাও সহজলভ্য করতে হবে। নারীর স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে, তাহলে সফলতার যদি কথা বলি, কাজের কথা বলি–তারা কখনোই সেই জায়গাটায় যেতে পারবে না।
পুষ্টিবিদ চন্দন কুন্ডু
পিসিওএসের ক্ষেত্রে জীবনযাপন পরিবর্তন চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু-কিশোরীর খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। স্কুলের টিফিনে নুডলস, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেনের বদলে ফল, বাদাম ও ওটসের মতো খাবার দেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস জরুরি। পিসিওএসে ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাদা ভাতের পরিবর্তে লাল চালের ভাত, ময়দার রুটির পরিবর্তে লাল আটার রুটি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওটস খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাছ ও অন্যান্য প্রোটিনের উৎস বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত চিনি ও ময়দাজাতীয় খাবার এড়িয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা দরকার। সুস্থ থাকার জন্য পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। এ জন্য কাজ করতে হবে। সরকারকেও এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম
নারী সুস্থ না থাকলে কর্মক্ষেত্রে বা জীবনের কোনো ক্ষেত্রে তাঁর সফলভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। পিসিওএস নিয়ে এখনও তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এ রোগ সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সচেতনতার ঘাটতি আছে। বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে এসব তথ্য নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে রেনাটা। পিসিওএসের বিভিন্ন উপসর্গ ও জটিলতা সম্পর্কে না জানার কারণে অনেক নারী হতাশা ও উদ্বেগে ভোগেন। এর প্রভাব পড়ে পরিবারেও। পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় নারীর স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন না। পিসিওএসের পাশাপাশি মেনোপজসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে এসব বিষয় মেনে নেওয়া এবং পরিবারের সবাই মিলে তা মোকাবিলা করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
সুপারিশ
জাতীয় পর্যায়ে পিসিওএস-বিষয়ক কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ে সহজ ভাষায়
সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে; যাতে পিসিওএসকে টিউমার বা নিশ্চিত বন্ধ্যাত্ব হিসেবে ভুল ধারণার প্রবণতা কমে।
সমন্বিত বা মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী স্ত্রীরোগ, এন্ডোক্রাইন, পুষ্টি, চর্ম ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সমন্বিত সেবা পাওয়া যাবে।
জীবনযাপন পরিবর্তনকে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রোগীদের উৎসাহিত করতে হবে।
স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিতে হবে।
সভাপতি
অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম
প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি
প্রেসিডেন্ট, এমএফএমএসবি
মডারেটর
ডা. শারমিন আব্বাসি
বন্ধ্যাত্ব ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, গাইনোকোলজিস্ট
আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আলোচক
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম
সাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি
অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার
চেয়ারম্যান, বিএমআরসি
সাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি
ডা. তাসবিরুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া
ডা. শাকিল ফরিদ
চেয়ারম্যান, প্ল্যানেটারি হেলথ একাডেমিয়া
অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম
সাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি
অধ্যাপক ডা. শেখ জিন্নাত আরা নাসরীন
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি
বিভাগীয় প্রধান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ
উপাধ্যক্ষ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
ডা. এফ. এম. এনামুল হক
বন্ধ্যাত্ব ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ
চিফ কনসালট্যান্ট, আনাম ফার্টিলিটি সেন্টার
ডা. মির্জা মো. আসাদুজ্জামান
গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিশেষজ্ঞ
সহযোগী অধ্যাপক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম আযম
বিভাগীয় প্রধান, পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিভাগ, বারডেম
সাধারণ সম্পাদক, হেপাটোলজি সোসাইটি, ঢাকা
অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
ডা. ফারিয়া আফসানা
সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বারডেম, ঢাকা
প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি
ডা. তাসনীম খাঁন
সহযোগী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌন বিভাগ)
কনসালট্যান্ট, ডারমাটোলজিস্ট
লেজার চেইন স্কিন সেন্টার
সাবিনা স্যাবি
চেয়ারম্যান, পাওয়ার অব শি ট্রাস্ট
পুষ্টিবিদ চন্দন কুন্ডু
পুষ্টিবিদ, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল
মো. খায়রুল ইসলাম
ডিজিএম (মার্কেটিং), রেনাটা পিএলসি
স্বাগত বক্তব্য
হাসান জাকির
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল
- বিষয় :
- গোলটেবিল