যেভাবে স্তন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করবেন
ডা. মনি রানী
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্ব নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। তবে অল্পসংখ্যক পুরুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত স্ক্রিনিং।
সব নারীরই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। তবে যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, যেমন– মা, খালা, বোন বা নানির মধ্যে কারও এই রোগ থাকলে তাদের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া যাদের বুকে আগে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়েছে, তারাও উচ্চঝুঁকিতে থাকেন।
স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং সব নারীর জন্যই প্রয়োজন। যাদের পরিবারে কোনো ইতিহাস নেই, তারা ২৫ বছর বয়স থেকে স্ক্রিনিং শুরু করতে পারেন। যাদের পরিবারে ইতিহাস আছে, তাদের পরিবারের সদস্য যে বয়সে আক্রান্ত হয়েছেন, তার অন্তত ১০ বছর আগে থেকে স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত।
স্ক্রিনিংয়ের পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন, ম্যামোগ্রাফি এবং স্তনের এমআরআই। বয়স অনুযায়ী স্ক্রিনিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি তিন বছর পরপর পরীক্ষা করা উচিত। ৪০ থেকে ৫৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবছর পরীক্ষা ও ম্যামোগ্রাফি করা প্রয়োজন। ৫৫ বছরের পর প্রতি দুই বছর পরপর পরীক্ষা করা উচিত।
যারা উচ্চঝুঁকিতে আছেন, তাদের প্রতিবছর চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করানো উচিত এবং ৩০ বছর বয়স থেকে ম্যামোগ্রাফি শুরু করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমআরআইও করা যেতে পারে।
এই স্ক্রিনিং যে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে করা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতনতা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক : ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, রংপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল
- বিষয় :
- ক্যান্সার
