এপস্টেইনকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক পুত্রবধূ লিখেছিলেন, ‘জাস্ট ম্যারি মি’
সাবেক ব্রিটিশ যুবরাজ অ্যান্ড্রুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন। ফাইল ছবি: এএফপি
বিবিসি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৪৫ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:২০
আলোচিত এপস্টেইন ফাইলে সাবেক ব্রিটিশ যুবরাজ অ্যান্ড্রু আলবার্ট একাই নন, তাঁর মেয়ে ও প্রাক্তন স্ত্রীর নামও একাধিকবার উল্লেখ আছে। প্রকাশ করা একটি ইমেইলে জেফরি এপস্টেইনকে সাবেক ডাচেস অব ইয়র্ক সারা ফার্গুসন (অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী) লিখেছিলেন, ‘আই অ্যাম অ্যাট ইউর সার্ভিস, জাস্ট ম্যারি মি।’ যেটির অর্থ দাঁড়ায়, ‘আপনার সেবায় নিয়োজিত, আমাকে শুধু বিয়ে করুন।’
এপস্টেইনের সঙ্গে সারা ফার্গুসনের আর্থিক লেনদেন এবং বাড়ির ভাড়া পরিশোধের জন্য অর্থ চাওয়ার তথ্যও নথিতে উঠে এসেছে। এই বার্তা আদান-প্রদানে সরাসরি কোনো আইনি অপরাধের ইঙ্গিত নেই। তবে প্রকাশিত নথির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সারার প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
‘জাস্ট ম্যারি মি’
বেশ কিছু ইমেইলে এপস্টেইনের সঙ্গে সারার বন্ধুত্বের গভীরতা ফুটে উঠেছে। ২০০৯ সালে বিনিময় হওয়া একটি ইমেইলে দেখা যায়, বেশ উৎসাহের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক ব্র্যান্ড ও বইয়ের সম্ভাবনার বিষয়ে এপস্টেইনকে জানান সারা। লিখেন, ‘আপনার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের মাত্র এক সপ্তাহ পরই মনে হচ্ছে সবকিছুতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আমার মেয়েদের সামনে আপনি যেভাবে আমার প্রশংসা করেছেন, কোনো বন্ধুর এমন দয়া বা মহানুভবতা এর আগে এত বেশি স্পর্শ করেনি। ধন্যবাদ জেফরি, সেই ভাই হয়ে ওঠার জন্য যাকে আমি সবসময় চেয়েছি।’
পরের বছর সারার পক্ষ থেকে এপস্টেইনকে পাঠানো আরেকটি ইমেইল ছিল বিনয় ও ভালোবাসায় পূর্ণ। সেখানে তিনি লিখেন, ‘আপনি একজন কিংবদন্তি। আপনার উদারতা এবং দয়ার বিপরীতে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো ভাষা আমার জানা নেই।’ পরের বাক্যের শুরুতে দুইবার ইংরেজি অক্ষর ‘এক্স’ উল্লেখ করে সারা লিখেন, ‘আপনার সেবায় নিয়োজিত। শুধু আমাকে বিয়ে করুন।’ ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যে সাধারণত সামাজিক মাধ্যমের বার্তায় আবেগ ও যত্ন বোঝাতে ‘এক্স এক্স’ লেখেন অনেক ব্যবহারকারী।
‘ভাড়ার জন্য ২০ হাজার পাউন্ড দরকার’
২০০৯ সালে একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর এপস্টেইনকে উদ্দেশ্য করে সারা লিখেছিলেন, ‘ভাড়ার জন্য আজ আমার জরুরিভাবে ২০ হাজার পাউন্ড দরকার। আমি যদি পরিশোধ না করি, তাহলে বাড়ির মালিক পত্রিকা অফিসে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কোনো বুদ্ধি আছে?’
এপস্টেইনের কাছে সারার ভাড়ার অর্থ চাওয়ার ইমেইল বিনিময় শুরু হয়েছিল ডেভিড স্টার্নের মাধ্যমে। স্টার্ন একজন আইনজীবী ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের কমিশনার ছিলেন। ২০০৯ সালের ২ অক্টোবর স্টার্ন এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের কপি এপস্টেইনকে পাঠান। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘ঋণগ্রস্ত ডাচেস? সারা ফার্গুসনের ব্যবসা বন্ধ’। এতে সারার আর্থিক অবস্থা বিপন্ন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ইমেইলটির জবাব দেওয়ার সময় সেটির অনুলিপিতে সারাকেও যুক্ত করেন এপস্টেইন। এরপর কথোপকথনের এক পর্যায়ে সারা জানান, ভাড়ার জন্য তাঁর অর্থ প্রয়োজন।
ইমেইলে ইউজেনির ‘লাভ লাইফ’
কিছু ইমেইলের বিভিন্ন অংশে রাজকুমারী বিয়াত্রিস ও ইউজেনির নাম উঠে এসেছে। ২০১০ সালের ২১ মার্চ এপস্টেইনের পাঠানো একটি ইমেইলে শুধু লেখা হয়েছিল ‘এনওয়াই?’। অপরপ্রান্ত থেকে সেটির উত্তরে জানানো হয়, ‘এখনও নিশ্চিত নই। ইউজেনির ‘‘শ্যাগিং উইকেন্ড’’ থেকে ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি।’
এই ফাইলে কথোপকথনটির আর কোনো প্রেক্ষাপট দেওয়া হয়নি। ইমেইল ঠিকানা মুছে দেওয়ায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি উত্তরদাতা সারা ফার্গুসন ছিলেন কি না। রাজকুমারী ইউজেনি সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু আলবার্ট ও সারা ফার্গুসনের ছোট মেয়ে। তিনি ব্রিটিশ সিংহাসনের ১২তম উত্তরাধিকারী। তাঁর স্বামীর নাম জ্যাক ব্রুকসব্যাঙ্ক। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডে একটি স্কিইং ট্রিপে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল।
আরও পড়ুন: এপস্টেইন ফাইল নিয়ে বিশ্বে কেন এত আলোচনা
- বিষয় :
- নথি
- যুক্তরাজ্য
