ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অস্ত্রের বাজারে প্রবেশ করছে জাপান, প্রতিরোধের অঙ্গীকার চীনের

অস্ত্রের বাজারে প্রবেশ করছে জাপান, প্রতিরোধের অঙ্গীকার চীনের
×

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ২০:৩১ | আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২২

কয়েক দশকের পুরনো প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যাচ্ছে জাপান। যেটির লক্ষ্য অস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা। মঙ্গলবার শান্তিকামী দেশটির সরকার বড় ধরনের এই নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে জাপান তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর আশা করছে। এশিয়ার এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকির উদ্বেগের মুখে টোকিও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটির তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেইজিং।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন ‘চ্যালেঞ্জিং’ হয়ে উঠছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো দেশই এখন আর নিজ থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারবে না। এমন প্রেক্ষাপটে একে অপরকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

তাকাইচি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিকামী জাতি হিসেবে জাপানের মূল নীতি এবং ইতিহাস অপরিবর্তিত থাকবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেন সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার টোকিওতে। ছবি: এএফপি

তবে এমন পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া সামরিকীকরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে চীন। এর বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই পরিবর্তনে বেইজিং ‘মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন’। তারা জাপানের নতুন ধাঁচের বেপরোয়া সামরিকীকরণের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়বে।

সংঘাতে জড়ানোর শঙ্কা
জাপান অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ১৯৭৬ সালে। এরপর থেকে দেশটি শুধু অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, সতর্ক সংকেত, নজরদারি, মাইন অপসারণ এবং পরিবহন সংক্রান্ত কাজে সরঞ্জাম রপ্তানি করতো। এক্সে দেওয়া পোস্টে সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার আইনে সংশোধনীর ফলে এখন সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম স্থানান্তর সম্ভব হবে।

সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, জাপান শুধু সেসব দেশগুলোর কাছে অস্ত্র রপ্তানি করবে যারা জাতিসংঘের সনদ মেনে সরঞ্জামগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেবে। তবে, এমন পরিবর্তনে জাপানের নাগরিকদের মধ্যেই অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে।

জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের মার্চ মাসের একটি জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। সমর্থন দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। শান্তি কর্মীরা সারা দেশে সমাবেশ করেছেন। তাদের শঙ্কা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাকাইচির প্রকাশ্য সমর্থন জাপানকে বিভিন্ন সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। 

প্রবীণ অধিকারকর্মী কোজি সুগিহারা এএফপিকে বলেন, জাপানের শান্তিকামী ভাবমূর্তি ঐতিহাসিকভাবে দেশটির কূটনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করেছে। এখন এই পরিবর্তনটি একটি ঐতিহাসিক মোড়। এখানকার কেউ চায় না যে, জাপানে তৈরি হওয়া অস্ত্রগুলো মানুষ হত্যায় ব্যবহার হোক।

আরও পড়ুন

×