ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে ট্রাম্প: ইরানকে ‘নরকের’ হুমকি, এআইয়ের দিলেন নতুন নাম

জাতিসংঘে ট্রাম্প: ইরানকে ‘নরকের’ হুমকি, এআইয়ের দিলেন নতুন নাম
×

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে। ছবি: এএফপি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মঙ্গলবার ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশটির বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছেন। চুক্তি না করলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি তাদেরকে এমন নরকে ঠেলে দেব, যেখান থেকে বেঁচে ফেরার সুযোগ থাকবে না?’ হুমকির সুরে এমন কথা বললেও পরে জানান, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আছে বলে তিনি মনে করেন।

ভাষণে এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। বলেন, যুদ্ধ অবসানে নিকট ভবিষ্যতে মস্কো-কিয়েভের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। আমরা দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। বিষয়টির সমাধান করব। মানুষ যতটা ধারণা করছে, তার চেয়েও দ্রুত সময়ে এটি ঘটবে।

আট যুদ্ধ বন্ধের দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণের একাংশ নিজেদের লাইভ ব্লগে তুলে ধরেছে আল জাজিরা। যুদ্ধ বন্ধে নিজের চেষ্টার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। অন্যরা যখন শুধু কথা বলে বেড়ায়, তখন তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় সাতটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। সেগুলো হলো আজারবাইজান-আর্মেনিয়া, কঙ্গো-রুয়ান্ডা, ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরায়েল, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, মিশর-ইথিওপিয়া এবং কসোভো-সার্বিয়া।

তাঁর দাবিগুলোর তখন ফ্যাক্ট চেক করেছিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এক প্রতিবেদনে তারা লিখেছিল, ট্রাম্পের আহ্বানে দেশগুলো ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করলেও পরে আবার সংঘাতে জড়ায়। এছাড়া, ওই ঘোষণাপত্রগুলো কোনো শান্তি চুক্তি ছিল না। 

কিউবার ওয়াকআউট
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের পর ট্রাম্প কিউবার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, দেশটির পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এটি পুরোপুরি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তারা পতনের মুখে পড়বে।

ট্রাম্পের এমন কথার পর কিউবার প্রতিনিধিদল পরিষদ থেকে বেরিয়ে যান। তখন ট্রাম্প জানান, কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দেশটির সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমেরিকার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কোনো বিদেশি প্রতিপক্ষকে আমরা হুমকি হতে দেব না।

কৃত্রিম নয়, অতিবুদ্ধিমত্তা
ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর আন্তর্জাতিক তদারকির আহ্বান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এটিকে নতুন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের একটি ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে মার্কিন সরকার তাদের যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিবুদ্ধিমত্তা শব্দ ব্যবহার করবে। বাকি বিশ্বও একই পথ অনুসরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘে অবস্থানরত বিবিসির সাংবাদিক সারাহ স্মিথ গণমাধ্যমটির লাইভ ব্লগে লিখেছেন, ট্রাম্প তাঁর ভাষণে অর্থনীতি, অভিবাসন ও সীমান্ত পরিস্থিতিতে নিজের কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরেন। এমনভাবে নিজের সফলতার দাবি করেন, যা শুনে মনে হয় তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে নয় বরং মার্কিন ভোটারদের সামনে কথা বলছেন।

আরও পড়ুন

×