ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৮

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৮
×

কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলার বহুতল আবাসিক ভবনের বারান্দায় উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। ছবি: জেনিয়া সাভিলভ/ এএফপি

আল–জাজিরা

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫২ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩২

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার সামরিক হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে সোমবার ভোরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা এবং ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেকভ তার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানান, সোমবার ভোরের দিকে রাশিয়ার একটি গাইডেড আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে ভবনটির দুটি তলা ধ্বংস হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে।

রোববার ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে বিমান হামলায় একটি শিশু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানান, এতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

ওদেসা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানায়, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ব্যাপক হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন, একটি দোকান, একটি হোটেল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও একটি শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানী কিয়েভেও রুশ ড্রোন হামলায় একজন নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর-কিশোরী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নগর প্রশাসন জানায়, কিয়েভ অঞ্চলে অবিরাম ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এতে ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে।

জেলেনস্কি রোববার জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন।

জেলেনস্কি তার এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বলেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণকারী ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই উত্তেজনা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকত, তাহলে শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো অব্যাহত থাকত না।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভে অবস্থিত ‘কিয়েভস্টার’-এর একটি ডেটা সেন্টার এবং ‘ওমেগা টেলিকম’-এর একটি স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে সেবা দিচ্ছিল।

শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো তার সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে সোমবার রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে একটি তেল ডিপোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রতিবেদন ও ইউক্রেনীয় টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘এক্সাইলনোভা+’-এর প্রকাশিত ভিডিওতে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা গেছে। চ্যানেলটি স্থাপনাটিকে ‘পাভলোভস্কায়া’ তেল ডিপো হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা আলোচনা কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই থমকে আছে। এদিকে জাতিসংঘও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন

×