ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক্সপ্লেইনার

ভারতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে কেন সিইসির পদত্যাগের দাবি উঠছে

ভারতে বিরোধীরা কেন সিইসির পদত্যাগ চাইছে?
×

ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর, কলকাতায়। ছবি: এএফপি

এএফপি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৫১ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:০৩

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) অনিয়ম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এরপর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত সপ্তাহে এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন কমিশনারের মধ্যে দুজনের অনুমোদন ছাড়াই তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ইসিআই এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল। সেগুলো আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

ভারতজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রায়ই প্রশ্ন তুলে আসছে। তাদের অভিযোগ, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তালিকা থেকে কয়েক লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যার সুবিধা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতিবেদন প্রকাশের পর যেসব বিষয় সামনে এসেছে, সেগুলো তুলে ধরা হলো:

কী নিয়ে বিতর্ক?
ভারতে নতুন করে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয় গত বছর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা দেয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

গত ১০ মাসে এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিন কমিশনারের মধ্যে দুজন অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। এরপরও সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, তিন সদস্যের ইসিতে ঐকমত্য অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এসআইআর নিয়ে কেন এত বিতর্ক?
ইসিআই বলছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের শনাক্ত করা। একই সঙ্গে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য, তাদের নাম তালিকায় নিশ্চিত করাটাও লক্ষ্য।

কমিশন আরও বলছে, ‘অবৈধ অভিবাসীদের ভোট দেওয়া ঠেকাতেও এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।’ তবে সমালোচকদের দাবি, উদ্যোগটির কারণে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিপুলসংখ্যক নথিবিহীন মুসলিম অভিবাসী জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন কী বলছে?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসিআই। এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, গত এক বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ছবি: এএনআই

কমিশন আরও বলেছে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সামগ্রিক চিত্রের ‘কেবল একটি দিক’ তুলে ধরেছে। বাস্তবতা হলো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক।

তবে যেসব আদেশের বিষয়ে বাকি দুই কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন, সেগুলো কে অনুমোদন দিয়েছেন তা নিয়ে কমিশন প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

এরপর কী হবে?
বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছেন, ‘যদি তিন কমিশনারের মধ্যে দুজনের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ওই সিদ্ধান্ত এবং পুরো এসআইআর কার্যক্রম আইনগতভাবে অবৈধ।’ পবন খেরা আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল হতে পারে।

তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। এটি পূরণ না হলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে তারা আবার রাজপথে নামবে। ওইদিন ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সিজেপির কয়েক লাখ অনুসারী আছে। গত জুলাইয়ে তাদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

আরও পড়ুন

×