ভোট কারচুপির অভিযোগ
মোদি, শাহ ও জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:৩৯
ভারতের নির্বাচন কমিশন নিয়ে একের পর এক তথ্য প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরালো করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার দলের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে কংগ্রেস জানায়, আজ বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকে বসছে। বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিরোধী নেতারা।
গত বুধবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, এ প্রক্রিয়ার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের অজান্তেই নেওয়া হয়েছিল। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
গত সোমবার কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বিজয়নগরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পৈতৃক বাড়ির সামনে জড়ো হন। বাড়ির মূল ফটক ও বাইরের দেয়ালে স্প্রে করে ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’ ও ‘ভোট চোর’ লিখে দেন বিক্ষোভকারীরা। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও মামলা হয়েছে। মামলাকারী শৈলেন্দ্রমনি ত্রিপাঠীর দাবি, তাঁকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
গতকালের বৈঠকে সিডব্লিউসির গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সতর্কবার্তাই সত্য প্রমাণ হয়েছে। তিনি ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ভোট চুরির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
কংগ্রেসের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এই কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে পদত্যাগ, কয়েকটি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম স্থগিত, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ লাখের বেশি নাম পুনর্বহাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কংগ্রেসের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের যোগ্যতা প্রমাণের দায় চাপানো হয়েছে। স্বচ্ছ সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে পরিচালিত এমন একটি প্রক্রিয়ার ফলে ব্যাপক ও ইচ্ছামতো ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কংগ্রেস নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘শুধু একটি হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেন। দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জ্ঞানেশ কুমার ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের ‘হাতের পুতুল’ বলেন।
এদিকে ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় আগামী ২ অক্টোবর থেকে শহরে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণগ্রেপ্তার কর্মসূচি শুরু করবে সিজেপি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কর্মসূচির বিষয়টি জানান। খবর: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও স্ক্রল ডট ইনের।
- বিষয় :
- ভারত
- নির্বাচন কমিশন
- মোদি