মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি
প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি। ছবি: জালাল মোরচিদি/ইপিএ
বিবিসি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৩৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪৮
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ। ২৩ সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচনে তার দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর মঙ্গলবার তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৩৯৫ আসনের পার্লামেন্টে প্যাম ৯৭টি আসন পেয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দলটির নেই। ফলে নতুন সরকার গঠনে তাদের জোট করতে হবে।
৫০ বছর বয়সী এল মানসৌরি পেশায় আইনজীবী। তিনি মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এর আগে জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর পরিকল্পনা, আবাসন ও নগর নীতি বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রথমবার মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালের নির্বাচনের পর আবারও ওই দায়িত্বে ফেরেন।
২০০৮ সালে প্যাম প্রতিষ্ঠার পর দলটির সঙ্গে যুক্ত হন এল মানসৌরি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দলটি কোনো একক মহাসচিবের পরিবর্তে যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এল মানসৌরি ওই যৌথ নেতৃত্বের সমন্বয়ক।
নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে এল মানসৌরি ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফৌজি লেকজার নাম আলোচনায় ছিল। শেষ পর্যন্ত রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ এল মানসৌরিকে বেছে নেন। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন।
নিয়োগের পর এল মানসৌরি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এই দায়িত্বের পাশাপাশি সব মরক্কোর নারীর জন্যও গর্বের বিষয়।
রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে একজন নারী সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ নিয়ে নির্বাচনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সরাসরি উত্তর না দিয়ে এল মানসৌরি রাজাকে নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজা প্রজ্ঞার আধার এবং সরকারপ্রধানের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হলে তা হবে অত্যন্ত সম্মানের।
আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এল মানসৌরি রাবাতের মোহাম্মদ পঞ্চম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ও করপোরেট আইনে উচ্চতর শিক্ষা নেন।
রাজনৈতিক জীবনে নারী অধিকার ও লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে তিনি তুলনামূলকভাবে কম প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। মরক্কোতে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।
এল মানসৌরি নিজেকে ‘লৌহমানবী’ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২১ সালে প্যামের একটি সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে ‘স্বাধীন কর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
নির্বাচনে প্যাম সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই) পেয়েছে ৬৬টি আসন এবং ইস্তিকলাল পার্টি পেয়েছে ৬৫টি আসন। ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন, যা ২০২১ সালের ১৩ আসনের তুলনায় বড় প্রত্যাবর্তন।
পিজেডির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরান জানিয়েছেন, প্যামের সঙ্গে কোনো অংশীদারিত্বে যাবে না এবং বিরোধী দলে থাকবে। ফলে প্যামকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে হবে।
মরক্কো সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটির রাজা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ধরে রাখেন। নতুন সরকারের সামনে জোট গঠনের পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জনসেবার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে।
- বিষয় :
- মরক্কো
- প্রধানমন্ত্রী
- নির্বাচন
- আইনজীবী