ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা

তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
×

জাহাজের আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায়। ছবি: নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস ডটকমের সৌজন্যে

ডেইলি সাবাহ

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩২

ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো আছে। অনেকের বিশ্বাস এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল।

দলটির উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানিয়েছেন, কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাডার স্ক্যানে মাটির নিচে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। কাঠামোটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি নাকি মানুষের সৃষ্টি- তা জানতে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।

ভূতাত্ত্বিক ওই কাঠামোটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ইলহান দুরুপিনার নামে এক ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার প্রথম এর সন্ধান পান। তখন তিনি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হয়ে উড়োজাহাজে করে পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে জরিপ চালাচ্ছিলেন।

ভূতাত্ত্বিক কাঠামোটি আবিষ্কার করেন তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার। ছবি: নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস

ওই আবিষ্কারের পর দাবি ওঠে এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার অবশিষ্টাংশ হতে পারে। এরপর তুরস্ক ও বিদেশের বহু গবেষক সেখানে অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছেন।

সবশেষ গবেষণাটি শুরু হয় গত মে মাসে। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। গবেষণায় অংশ নেন পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী। তারা তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী ওই স্থানে টানা ৯০ দিন ধরে কাজ করেছেন।

সেখানকার ভূখণ্ডের নকশা বা মডেল তৈরি করতে গবেষকরা ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচে স্ক্যান করার জন্য ব্যবহার করা হয় নতুন প্রজন্মের একটি রাডার সিস্টেম। স্থানটির বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটির প্রায় ১ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়েছে। এরপর নমুনা পাঠানো হয় গবেষণাগারে। 

‘পুরো কাঠামোটি মাটির তৈরি’
গবেষক দলের উপপ্রধান জোনস বলেন, তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো- কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। 

ভূগর্ভ-অনুসন্ধানী রাডারের মাধ্যমে ২০১৯ সালে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ছবি। নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস

জোনস বলেন, অনেকের ধারণা ছিল এটি প্রাকৃতিক কাঠামো। হয়তো শক্ত কোনো পাথরখণ্ড বহু বছর ধরে ক্ষয়ে জাহাজের আকার ধারণ করেছে। তবে খননের পর দেখা গেছে, পুরো কাঠামোটিই মাটির তৈরি। কিছু বড় পাথরখণ্ড থাকলেও, কোর ড্রিলিং মেশিন দিয়ে খননের সময় ক্রমাগত মাটির নমুনাই উঠে এসেছে।

এই ফলাফল থেকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি বলেও জানান জোনস। তিনি বলেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক কাঠামো হতে পারে। আবার মানুষের তৈরি কাঠামোও হতে পারে। এখন শুধু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তদন্ত করা হচ্ছে।

গবেষকরা ভূপৃষ্ঠের নিচে গাঢ় রঙের মাটির সন্ধান পেয়েছেন। এটি পচে যাওয়া কাঠ নাকি মানুষের কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ- তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। গত আগস্ট মাসে করা রাডার স্ক্যানেও মাটির নিচে কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়।

গবেষক দলের উপপ্রধান অ্যান্ড্রু জোনস। ছবি: ডেইলি সাবাহর সৌজন্যে

জোনস বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে কিছু নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। সেগুলো কোনো অস্বাভাবিক বস্তু বা কাঠামোর নমুনা বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন রাডার বিজ্ঞানীদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে। সবশেষ খননের মাধ্যমে তারা মাটির ওই অস্বাভাবিক নমুনা পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন।

প্রথমবার কোর ড্রিলিং
অ্যান্ড্রু জোনস জানান, ১৯৫৯ সালে স্থানটি আবিষ্কারের পর থেকে গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়েছেন। তবে আগের কাজগুলোতে ভূপৃষ্ঠের ওপরের কাঠামোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল।

জোনস বলেন, মাটির নিচে কী আছে তা দেখতে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সরকারের অনুমোদন নিয়ে খনন করেছেন। এখন রাডার থেকে পাওয়া তথ্য এবং মাটির নমুনাগুলো একসঙ্গে মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, গবেষণাটির মাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অ্যান্ড্রু জোনস এ ধরনের দাবির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কাজ শেষ হয়নি। এখনো গবেষণাগারে পরীক্ষা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা বাকি।

ডেইলি সাবাহ তুরস্কের ইস্তাম্বুলভিত্তিক ইংরেজি ভাষার গণমাধ্যম। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)।

আরও পড়ুন

×