রপ্তানি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ছাড়বে জি-৭
ছবি: রয়টার্স
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:১৮ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০২:২২
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় নিজেদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছাড়তে রাজি হয়েছে জি-৭। শুক্রবার এ বিষয়ে একমত হয় শিল্পোন্নত সাত দেশের জোটটি। একই সঙ্গে এসব দেশ থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে অবিলম্বে মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানান। বেসেন্ট বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ‘আমেরিকান কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের’–এর বোঝা বহন করতে দেওয়া উচিত নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি সীমিত করার হুমকি দিয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী দেশ। তারা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যেও ডিজেলের দাম চলতি সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
ফ্রান্স-জার্মানিকে চাপ, নিষেধাজ্ঞার সতর্কতা
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার জন্য ফ্রান্স ও জার্মানিকে চাপ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে দামও বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, ইউরোপের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ দ্রুততর করা এবং চলমান সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ অবিলম্বে উন্মুক্ত করা উচিত।
নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপ
নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট– দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রত্যাশায় রিপাবলিকানদের হয়ে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারে যাওয়ার কথা আছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী। দেশটি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যেও ডিজেলের দাম চলতি সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বাড়ছে জ্বালানির দাম
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলজাত পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।
যুক্তরাজ্য আমদানিনির্ভর
পেট্রোলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা কঠিন। আবার পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ডিজেলের চাহিদা কমানোও কঠিন। ডিজেলের জন্য যুক্তরাজ্য অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির চারটি শোধনাগার অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি পেট্রোল উৎপাদন করতে পারে।
- বিষয় :
- জ্বালানি সংকট