ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবির জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম জং উন

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবির জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম জং উন
×
×

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের সিউল রেলওয়ে স্টেশনে একটি সংবাদ অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পুরোনো ছবি দেখানো হচ্ছে। ছবি: এপি

রয়টার্স

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪৪ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৪৫

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল সিউল। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। এর মধ্যেই শনিবার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরের দিকে গিয়ে পড়ে। এর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখনো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। খবর এএফপির।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করে এবং প্রতিরক্ষার জন্য সতর্ক অবস্থানে ছিল।

দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিএমজেডে গত ২১ সেপ্টেম্বর মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। সিউলের দাবি, সীমান্তের দক্ষিণ পাশে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পুঁতে রাখা মাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।

তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই কোরিয়াকে বিভক্ত করে রেখেছে প্রায় চার কিলোমিটার প্রশস্ত ডিএমজেড। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন রয়েছে।

মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। পাশাপাশি সীমান্তে মাইন পোঁতা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানায় সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুল বলেছেন, বিস্ফোরণে দায়ী মাইনগুলো উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে পোঁতা হয়ে থাকতে পারে।

২০২৪ সালে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘প্রধান শত্রু’ ঘোষণা করেন। এরপর দুই দেশের সীমান্ত বিচ্ছিন্ন করার নানা পদক্ষেপ নেয় পিয়ংইয়ং। এর অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতা এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের জবাবে শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া।

সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন এএফপিকে বলেন, সিউল উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু পিয়ংইয়ং এর জবাবে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া শুভেচ্ছার জবাবে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×