নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে কূটনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ছবি: আন্দ্রেসা আনহোলেতে/গেটি ইমেজেস
আল–জাজিরা
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪৩ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৩৫
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ব্রাজিলে কূটনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় দূতাবাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়াও।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, শুক্রবার থেকে ব্রাজিলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে কনস্যুলার সেবা স্থগিত থাকবে। জরুরি সহায়তার প্রয়োজন হলে মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা অন্য কোনো কূটনৈতিক স্থাপনায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার সঙ্গে রবিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্রাসিলিয়া দূতাবাসও শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়। ব্রাজিলে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত সোফি ডেভিস দেশটির নাগরিকদের মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হুমকির পরিকল্পনার তদন্তে সাও পাওলো ও ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে তল্লাশি ও জব্দ অভিযান চালিয়েছে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া হুমকির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং কোনো অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনকেও শনাক্ত করা হয়নি। যোগাযোগের সরঞ্জাম জব্দের পর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এদিনিয়ো সিলভা এই বন্ধের ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্রাজিলের জনমতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এটি একটি কৌশল।
লুলার সহযোগীরা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের ব্রাজিলে পাঠানোর উদ্যোগকে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ব্রাজিলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও চলতি মাসে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে অবহিত করেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক কার্যক্রম স্থগিতের কারণ হিসেবে শুধু নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লাভিও বোলসোনারোর প্রশংসা করলেও নির্বাচনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানাননি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ব্রাজিলের নির্বাচনটি ‘অত্যন্ত নিবিড়ভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছেন।