ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটের 'উগ্রবাদী' পোস্ট, 'নারীবিদ্বেষী' মনোভাবের তথ্য সামনে

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলটের 'উগ্রবাদী' পোস্ট, 'নারীবিদ্বেষী' মনোভাবের তথ্য সামনে
×
×

আলহামমামির অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কেউ পোস্টগুলো করেছেন, নাকি সেগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত (শিডিউল করা) ছিল—তা-ও স্পষ্ট নয়। ছবি: সংগৃহীত

এনডিটিভি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০০

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে আলোচনায় আসা কো-পাইলট হামাম আলহামমামির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্ট ও অনলাইন কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার নামে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের ছবি ও চরমপন্থী ভাবধারার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পোস্ট পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তাকে নারীবিদ্বেষী মনোভাব পোষণকারী হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম আলহামমামির নামে থাকা একটি লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিটের কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। ভিডিওতে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি বিমানকে জুম করে দেখানোর পর আয়মান আল-জাওয়াহিরি ও হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাউইয়ের ছবি দেখানো হয়। আল-জাওয়াহিরি ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর আল-কায়েদার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর আল-বালাউই ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নয়জনকে হত্যা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেকটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ছবি দেখা যায়, যেখানে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের ইসলামের তিন পবিত্র স্থান তুলে ধরা হয়েছিল। ছবিটির পটভূমিতে থাকা কবিতায় অপমান প্রত্যাখ্যান, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং নিজের মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছিল।

তবে হামাম আলহামমামির ওই অ্যাকাউন্টগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তার অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কেউ পোস্টগুলো করেছিলেন কি না, অথবা সেগুলো আগে থেকেই নির্ধারিত (শিডিউল) ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামাম আলহামমামির মুছে ফেলা এক্স অ্যাকাউন্ট তাকে নারীবিদ্বেষী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরে। সেখানে তার মায়ের মাধ্যমে বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার বিষয়ে কয়েকটি পোস্ট ছিল। এসব পোস্টে বলা হয়, হবু স্ত্রীকে বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দিতে হবে এবং মুখমণ্ডল আবৃতকারী নিকাব পরতে হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টে আলহামমামির নামে লেখা হয়, “আমার শর্ত মানবে এমন পাত্রী খুঁজে পেতে মা হিমশিম খাচ্ছিল। আমার শর্ত ছিল নিকাব পরতে হবে এবং বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু তারা সবাই (বিয়ের জন্য খোঁজা পাত্রী) আমার শর্ত প্রত্যাখ্যান করে। আমার মা তাদের বলে ‘আমার ছেলে পাইলট’। আর এটি শুনে তারা সবাই হঠাৎ বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যায়।” 

তার আরেকটি পোস্টে নারী-পুরুষের যৌথ কর্মপরিবেশের সমালোচনা করে দাবি করা হয়, এমন পরিবেশ নারীদের ওপর নেতিবাচক ও বিপথগামী প্রভাব ফেলে।

ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের সন্তান হামাম আলহামমামি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ওমানের নাগরিক ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরমপন্থী মতাদর্শ গ্রহণের আশঙ্কায় ওমান তাকে বিমান চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে দেশটিতে তাকে প্রশাসনিক পদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলহামমামি ওমান এয়ারে প্রায় সাত বছর কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছাড়েন। একই বছরের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন এবং ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলহামমামির বলে ধারণা করা একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিন বছর মেয়াদি দূরশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি অর্জন করলেও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আবিবগামী একটি বিমানে নাশকতার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে আলহামমামির বিরুদ্ধে। বিমানটিতে ২৪ শিশুসহ ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন।

আহত হওয়ার পরও ভারতীয় ওই পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করেন। এ সময় বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। পরে এটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে শুরু করে এবং প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেছনে থাকা দুজন প্রশিক্ষণার্থী পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা বিমানটির গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আলহামমামি বিমানটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×