নোবেল পুরস্কারের জানা-অজানা পাঁচ
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:০৭
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
সোমবার চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ৫ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। আগামীকাল সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ৯টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের পুরস্কার ঘোষণা শুরু হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে নোবেল পুরস্কার ও এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক পাঁচ তথ্য।
কারাবন্দি অবস্থা
১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীকে অসলোতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। ১৯৩৬ সালে জার্মান সাংবাদিক ও শান্তিবাদী কার্ল ফন অসিয়েটস্কি নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আটক ছিলেন। মিয়ানমারের বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সময় গৃহবন্দি ছিলেন। সামরিক জান্তা তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলেও দেশে ফিরে আসতে পারবেন কিনা, সেই আশঙ্কায় তিনি পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি।
২০১০ সালে চীনা ভিন্ন মতাবলম্বী লিউ শিয়াওবো কারাগারে ছিলেন। পুরস্কারটি যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখানে তাঁর জন্য একটি চেয়ার খালি রাখা হয়েছিল। ২০২২ সালে বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিলিয়াতস্কি কারাগারে ছিলেন। তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী নাতালিয়া পিনচুক। ২০২৩ সালে ইরানের কর্মী নার্গেস মোহাম্মাদি পুরস্কার দেওয়ার সময় ইরানের এভিন কারাগারে আটক ছিলেন।
তরুণ ও প্রবীণ
২০১৪ সালে পাকিস্তানের ১৭ বছর বয়সী মানবাধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিজয়ী হন।
এর আগে কম বয়সে নোবেল পাওয়া ব্যক্তি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার লরেন্স ব্র্যাগ। ১৯১৫ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। যে গবেষণার জন্য তিনি পুরস্কার পান, তা তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে করেছিলেন। ইরাকের নাদিয়া মুরাদকেও ২০১৮ সালে ২৫ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ইয়াজিদি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান।
অন্যদিকে, নোবেল পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তি ছিলেন মার্কিন নাগরিক জন গুডএনাফ। ২০১৯ সালে ৯৭ বছর বয়সে তিনি রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান। স্মার্টফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি নিয়ে কাজের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগের বছর, ২০১৮ সালে তাঁর দেশের আর্থার অ্যাশকিন ৯৬ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
মরণোত্তর পুরস্কার
১৯৭৪ সাল থেকে নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়া যাবে না। তবে অক্টোবর মাসে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকে ডিসেম্বরের আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তী সময়ে বিজয়ী মারা গেলে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে।
এই নিয়ম পরিবর্তনের আগে মাত্র দুজন ব্যক্তি মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাদের একজন ছিলেন সুইডেনের নাগরিক ও জাতিসংঘের মহাসচিব দাগ হামারশোল্ড। ১৯৬১ সালে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে একই বছর তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৯৩১ সালে আরেক সুইডিশ নাগরিক, কবি এরিক অ্যাক্সেল কার্লফেল্টকে মরণোত্তর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের কমিটি কানাডার রালফ স্টেইনম্যানকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করে। কিন্তু কমিটি জানত না যে ঘোষণার মাত্র তিন দিন আগে তিনি মারা গেছেন। তারপরও নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
নারী বিজয়ী
১৯০১ সাল থেকে দেওয়া ৬৩৩টি নোবেল পুরস্কারের মধ্যে মাত্র ৬৮টি পেয়েছেন নারী। অর্থাৎ মোট পুরস্কারের প্রায় ১০ শতাংশ নারী পেয়েছেন। তবে ২০২০-এর দশকের শুরু থেকে এই হার ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক বিভাগগুলোতে নারী নোবেল বিজয়ীদের প্রতিনিধিত্ব সবচেয়ে কম। পুরস্কার দেওয়ার বিভিন্ন কমিটি বারবার কোটা চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে তারা নারী বিজ্ঞানীদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে।
কবি নোবেল আলফ্রেড নোবেল ইতিহাসে ডিনামাইটের উদ্ভাবক হিসেবে বেশি পরিচিত। তবে তিনি ইংরেজি কবিতারও ভক্ত ছিলেন। নোবেল নিজেও সারা জীবন কবিতা লিখেছেন। কখনও নিজের মাতৃভাষা সুইডিশে লিখেছেন, তবে বেশির ভাগ কবিতা লিখেছেন ইংরেজিতে।
১৮৬২ সালে, ২৯ বছর বয়সে এবং নিজের সাহিত্যিক প্রতিভা নিয়ে সন্দিহান থাকা অবস্থায় তিনি এক তরুণীকে ফরাসি ভাষায় একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞানই আমার ক্ষেত্র, লেখালেখি নয়।’
- বিষয় :
- নোবেল পুরস্কার