মস্কোর নতুন বিমান হামলা নীতির জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালাবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স
রয়টার্স
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২৭
মস্কোর নতুন বিমান হামলা নীতির জবাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করবে ইউক্রেন। তবে বেসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু নথি পেয়েছে, যেগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, শীতের আগে ইউক্রেনের শহর ও অবকাঠামোয় আরও বিস্তৃত হামলার অনুমোদন দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার নতুন নীতিতে অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, সড়ক, স্কুল ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য মানুষকে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা।
তবে রাশিয়া জেলেনস্কির এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে। দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে তার জবাব রাশিয়ার জ্বালানি খাতেই দেওয়া হবে। বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করা হবে, কারণ এসব স্থাপনা থেকে রাশিয়া যুদ্ধের জন্য অর্থ পায়। তবে বেসামরিক স্থাপনায় রাশিয়ার মতো করে হামলা চালানো হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ‘ভিভালদি’ নামে ইউক্রেনের পাল্টা অভিযানে দোনবাস অঞ্চলের প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলছে। অন্যদিকে রাশিয়া শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে পুরো দোনবাসের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, সড়ক ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ডিনিপ্রো নদীর ওপর কিয়েভের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করা সেতুগুলোতেও প্রথমবারের মতো হামলা হয়েছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার ধরন পরিবর্তনের জবাবে ইউক্রেনকেও নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এদিকে রাশিয়া শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
রাশিয়ার দ্রুতগতির জেটচালিত শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে। জেলেনস্কি জানান, এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে এফ-১৬ ও মিগ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিমানগুলোর ২০ মিলিমিটার গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে। অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন ধরনের ছোট ও তুলনামূলক সস্তা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম চালান পাওয়ার আশা করছে ইউক্রেন।
এ ছাড়া ইউক্রেন নিজস্ব এফপি-৭ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যবহার শুরু করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। আরও দীর্ঘপাল্লার এফপি-৯ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই দেশের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় কারিগরি আলোচনা হতে পারে। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
- বিষয় :
- ভলোদিমির জেলেনস্কি
- ইউক্রেন
- মস্কো
- হামলা