মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলেন দেড় হাজার অভিবাসী
মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো মিয়ানমারের অভিবাসীদের নথি যাচাই করেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। রোববার থানলিনে। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:১৯
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার অভিবাসী রোববার নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে গেছেন। একটি অস্বচ্ছ প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, এই প্রত্যাবাসনে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নেই।
মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজে করে ওই অভিবাসীরা থানলিন নৌ ঘাঁটিতে পৌঁছান। এরপর বাসে করে তাদেরকে একটি বৌদ্ধ বিহারের হলে নেওয়া হয়। ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের সেখানে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার একটি কফি শপে কাজ করার সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৫৩ বছর বয়সী কিয়াও সোয়ার থেইন। দেশে ফেরার পর তিনি বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ছিলেন। সেখানে স্ক্যাবিসে ভুগেছেন। এ কারণে দেশে ফিরতে চেয়েছেন। কিন্তু এখন ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে।
বৌদ্ধ বিহারের হলের মেঝেতে সারিবদ্ধ হয়ে বসা কয়েকজনের পরনে ছিল টি-শার্ট। যেখানে লেখা ছিল, ‘উই লাভ মিয়ানমার’ বা আমরা মিয়ানমারকে ভালোবাসি। কিয়াও সোয়ার বলেন, এখনো পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তিনি আর কোনো কিছুরই আশা করছেন না।
দেশে ফেরা স্বজনদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ভোরে থানলিন নৌ ঘাঁটির বাইরে কয়েক’শ মানুষ জড়ো হয়েছিল। অনেকের হাতে প্রিয়জনদের ছবি ও নাম লেখা কাগজের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব
রোববার অভিবাসীদের বহনকারী তিনটি জাহাজ থানলিনে পৌঁছায়। মিয়ানমার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৭৬ জন অভিবাসীকে নিয়ে জাহাজগুলো গত মঙ্গলবার রওনা হয়েছিল।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ৫ হাজার অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে দেড় হাজার জনকে ফেরত পাঠানো হলো।
দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের দলে বেশিরভাগই পুরুষ। নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে- ৭৯ ও ২৭ জন।
আনোয়ার ইব্রাহিম গত জুলাই মাসে এই প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন দেশটিতে শরণার্থী ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জেনোফোবিয়া (বহিরাগতদের প্রতি বিদ্বেষ) বেড়ে গিয়েছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ফেরত যাওয়া অভিবাসীদের প্রথম দলে রোহিঙ্গারা থাকতে পারেন।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। রোববার থানলিনে পৌঁছানো জাহাজগুলোতে কতজন রোহিঙ্গা আছেন তা স্পষ্ট নয়। কুয়ালালামপুরও কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেনি।