সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ
ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে লংমার্চ শুরু
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৯ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০২
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তবে দুই দফায় এ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন রাজপথে নামছে ইমরানের দল। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া আলোচনা গতকাল স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত চলেছে। কিন্তু এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পর দুপুর দেড়টা থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে দলটি।
পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদে আসবেন। বিভিন্ন জায়গায় বিরতি দিয়ে আগামী ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন তারা। পিটিআই প্রথমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের লংমার্চের সময় নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ইসলামাবাদে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পর রক্তক্ষয়ের আশঙ্কায় সেদিন কর্মসূচি স্থগিত করে এটি ৪ অক্টোবর নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, আলোচনায় পিটিআইয়ের প্রধান দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে দিতে হবে, তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন। এর সঙ্গে আরও দাবি ছিল, ইমরানের তিন আটক বোনের মুক্তি ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি গতকাল রোববার হেলিকপ্টারে করে লাক্কি মারওয়াত পৌঁছেছেন। কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই যে লংমার্চ আয়োজন করেছে, তিনি সেই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যই সেখানে যান। লংমার্চটি পাকিস্তানের পেশোয়ার-করাচি ইন্দাস হাইওয়ের গান্ধী চক থেকে শুরু হওয়ার কথা।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মাইদাদকেলের কাছে একটি বিশেষ হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেপির মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার থেকে নামার সময় সেখানে পিটিআইয়ের বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক লংমার্চে ‘রাষ্ট্রীয় হেলিকপ্টার ব্যবহারের’ জন্য আফ্রিদির সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহারের ঘটনাকে ‘ইসলামাবাদ হাইকোর্টের আদেশের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছে।’
এর আগে সাবেক খাইবার পাখতুনখোয়া মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের নেতৃত্বে পিটিআইয়ের কর্মী ও সমর্থকরা দলের লংমার্চে যোগ দিতে ডেরা ইসমাইল খান থেকে রওনা হন। ডিআই খান থেকে যাত্রা শুরুর আগে গান্দাপুর জোর দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে লংমার্চ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাঁজোয়া যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও রাখা হয়েছে। কেপির মুখ্যমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও উপজাতীয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক সাদ তাঁর বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, পিটিআই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চ’ আজ গান্ধী চক থেকে শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলো থেকে আসা গাড়িবহরও এতে যোগ দেবে।