২০২৭ সালের হজে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু সৌদির, কী আছে এতে
ফাইল ছবি
আরব নিউজ
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:০৩
বিদেশ থেকে হজে আসা মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন এই ব্যবস্থায় হজ এজেন্সিগুলো একটি মাত্র চুক্তির মাধ্যমে হাজিদের আবাসন, যাতায়াত, খাবার এবং পবিত্র স্থানগুলোর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই প্যাকেজের ফলে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি করার প্রয়োজন হবে না। বিদেশি হজ এজেন্সি ও হাজিদের বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একটি মাত্র ইলেকট্রনিক আবেদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সেবা নিতে পারবে। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা এই চুক্তির আওতায় থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় হজের আনুষ্ঠানিকতা আরও সহজ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং হজ এজেন্সি, হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তর ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হবে।
‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং খাবার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের হাজিদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু সেবা যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এর আগে হজের আয়োজকদের প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা আলাদা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় পুরো হজযাত্রার প্রয়োজনীয় সেবাগুলো একটি আবেদনের মাধ্যমে একত্রে নেওয়া যাবে। এতে প্রতিটি চুক্তির আওতায় কোন কোন সেবা থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
২০২৭ সালের হজ মৌসুমের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
নতুন ব্যবস্থাটি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজি, হজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তরগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটিতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ তৈরি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে আগে পৃথক পৃথক মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কার্যক্রম একটি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।
হজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের বড় অংশই সৌদি আরবের বাইরে থেকে যান। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হজ মৌসুমে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জনই ছিলেন বিদেশি। সৌদি আরবের অভ্যন্তর থেকে হজ পালন করেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।
সৌদি আরবের ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩ কোটি ওমরাহ পালনকারীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং ওই বছর হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশটিতে অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিষয়টিকে এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ওমরাহ মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ এজেন্টদের যোগ্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত চুক্তির কার্যক্রম শুরু করে। সাধারণত সৌদি কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে হজের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার তথ্য প্রকাশ করে। প্রথম দিকে চুক্তি ও এজেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত জানানো হয়। এরপর হজের সময় ঘনিয়ে এলে পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।