হুমকি পেয়েই যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরায় যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি
বিবিসি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:৪৪
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে ‘কিছু হুমকি’র কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ওই ঘাঁটির বিরুদ্ধে হুমকির বিষয়টি জানার পর সেখান থেকে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
রোববার পেন্টাগন নিশ্চিত করে, ঘাঁটিতে থাকা প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার নেব্রাস্কার উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ঘাঁটিতে হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই অবগত ছিল।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা দুর্ঘটনাবশত উড়ে যায়নি। কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে প্রলুব্ধ করার চেয়ে তাদের আটক করে পরাজিত করাই ভালো। তাহলে সেখানে বিমান রেখে ঝুঁকি নেওয়ার কী দরকার? তাই আমরা সেগুলো একটু সরিয়ে নিয়েছি। খুব বেশি দূরে নয়।’
কারা এই হুমকি দিয়েছে, তা উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প দাবি করেন, হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে ওয়াশিংটন জানে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার পেছনে ঠিক কী ধরনের হুমকি কাজ করেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ওয়াশিংটনের কয়েকটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, নাশকতার চেষ্টা কিংবা ইরানের সঙ্গে আবার সংঘাত শুরু হলে ঘাঁটিতে থাকা অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমানগুলোতে হামলার আশঙ্কা থেকেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’-এর উদাহরণ টেনেছে। গত বছর রাশিয়ার পাঁচটি বিমানঘাঁটিতে চালানো ওই গোপন ড্রোন হামলায় দূরবর্তী অবস্থান থেকেও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখানো হয়েছিল।
ওই সূত্রের ভাষায়, হুমকিটি যে ধরনেরই হয়ে থাকুক, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি ঘটনার পর নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। ওই দিন ঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়।
ঘটনাটি সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিলেও তেহরান তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ঘটনায় ইরানের ভূমিকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে এর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বোমারু বিমান সরানোর পেছনে হুমকির কথা বলেছেন। ভ্যান্সের ভাষ্য, ‘অতিরিক্ত সতর্কতা’ হিসেবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক ইউনিট ও সরঞ্জাম বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সরানো বা পুনর্বিন্যাস করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
রুবিও বলেন, মহড়ার কারণে, মোতায়েন পরিবর্তনের কারণে কিংবা নতুন বিমান ও সেনা সদস্য আসা-যাওয়ার অংশ হিসেবেও সামরিক সম্পদ সরানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের পূর্ণ আস্থার কথা জানান এবং ঘটনাটির পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনায়ও ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারে যুক্তরাজ্য অনুমতি দেওয়ার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়েছিল।
প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টফ বার্গস রয়টার্সকে বলেছেন, ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিমান হামলার সক্ষমতা কিছুটা কমবে। তবে যুক্তরাজ্য শুধু প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় এমনিতেই এর ব্যবহার সীমিত ছিল।
বিকল্প হিসেবে বিমানগুলো ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটিতে পাঠানো হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিগুলোর সক্ষমতা, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।