ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড়’ পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড়’ পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের
×

সিডনিতে অভিবাসনবিরোধী ‘মার্চ ফর অস্ট্রেলিয়া’ সমাবেশে অস্ট্রেলিয়ার পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩১ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৩৩

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির রক্ষণশীল বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন। জোটটি বলছে, তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হবে এটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই বছর ধরে বছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ১ লাখে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে যে হারে অভিবাসন হচ্ছে, এর পরিমাণ তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেন, ‘আজ আমরা যে প্রস্তাব দিচ্ছি, তা এই দেশের ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।’

টেইলর বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়াকে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।’ তার ভাষ্য, অভিবাসন কমানো হলে সড়ক, স্কুল, অবকাঠামো ও আবাসনের ওপর চাপ কমবে এবং দেশটি প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পাবে।

বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে বছরে ১০ হাজারে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার করা হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস, পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ দেওয়া অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে জোটটি।

তবে দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা ১ লাখ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। নির্মাণশ্রমিকদের ভিসা আবেদনের যে জট তৈরি হয়েছে, সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে।

টেইলর বলেন, লেবার সরকারের সময়ে দক্ষ কর্মীভিত্তিক অভিবাসন থেকে সরে ‘গণহারে অভিবাসনের’ দিকে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের সরকার সেই প্রবণতা পরিবর্তন করবে।

অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসনসংকটের মধ্যে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশনের ওপর উগ্র ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টির চাপও বাড়ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে ওয়ান নেশন কোয়ালিশনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দলটি তিন বছরে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিরোধীদের নতুন পরিকল্পনা গত মাসে কেন্দ্র-বামপন্থী লেবার সরকারের ঘোষিত অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনার চেয়েও কঠোর। লেবার সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে নিট অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য জানিয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়া করোনার কারণে বন্ধ থাকা সীমান্ত খুলে দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী কর্মীদের আগমনের কারণে দেশটিতে অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়।

তবে গত দুই বছরে অভিবাসনের হার কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া এক বছরে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার।

অস্ট্রেলিয়ায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে হওয়ার কথা নয়।
 

আরও পড়ুন

×