তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ক্যান্সার, কেন একে ‘টাইমবোমা’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রতীকী ছবি
দ্য গার্ডিয়ান
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৫ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৬
৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সাত ধরনের ক্যান্সারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের ক্যান্সারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন প্রবণতা পেয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড (ডব্লিউসিআরএফ)।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে ২০০১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারের হার প্রায় চার গুণ হয়েছে। একই সময়ে অন্ত্র, কিডনি ও জরায়ুর ক্যান্সারের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
ডব্লিউসিআরএফ ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের ক্যান্সারের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। এতে ইংল্যান্ডে সাত ধরনের, যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ ধরনের এবং নেদারল্যান্ডসে চার ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের প্রকোপ সব বয়সীদের মধ্যেই বাড়ছে। তবে বয়স্কদের তুলনায় কম বয়সীদের মধ্যে কিছু ক্যান্সারের হার দ্রুত বাড়ছে। স্থূলতা বৃদ্ধি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব, অ্যালকোহল গ্রহণ ও ধূমপানসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন ঝুঁকি এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশে দূষণ, রাসায়নিক ও প্লাস্টিকের সংস্পর্শও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগেভাগে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে।
৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যান্সার এখনো তুলনামূলকভাবে বিরল। ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার মধ্যম বয়স ৬০ বছরের বেশি। তবু তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারের এই পরিবর্তনশীল প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছরের কম বয়সী প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের হার ২০০১ সালে ছিল ১ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৬ জন। একই সময়ে অন্ত্রের ক্যান্সারের হার ৩ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৪ জন।
জরায়ু ও কিডনি ক্যান্সারের হারও দ্বিগুণ হয়ে যথাক্রমে প্রতি এক লাখে ৩ দশমিক ৯ ও ৩ জনে দাঁড়িয়েছে। স্তন ক্যান্সারের হার তুলনামূলক কম হারে বেড়েছে-২০০১ সালে প্রতি এক লাখে ৪২ জন থেকে ২০২৩ সালে ৪৭ দশমিক ৫ জন হয়েছে। এ ছাড়া অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ক্যান্সারের হারও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালের পরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কিডনি ক্যান্সারের হার প্রতি এক লাখে ২ দশমিক ৫ জন থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ৩ জন হয়েছে। অন্ত্র, জরায়ু ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। স্তন ক্যান্সারের হার বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
নেদারল্যান্ডসেও ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্র, কিডনি, যকৃত ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তিন দেশেই তরুণদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের হার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা এর সঙ্গে ধূমপানের হার কমে যাওয়ার সম্পর্ক দেখছেন।
কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ডিজিটাল হেলথের অধ্যাপক মার্ক ললার বলেন, তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারের এই প্রবণতা দ্রুত মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি ‘টাইমবোমা’, যা দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ডব্লিউসিআরএফের গবেষণা ও নীতিবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক গিওটা মিত্র বলেন, প্রবণতাটি উদ্বেগজনক। তার মতে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যান্সারের পরিবর্তনশীল ধরনকে গবেষণা ও ক্যান্সার প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
ডব্লিউসিআরএফের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যান্সারের সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব, অ্যালকোহল ও ধূমপান রয়েছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, কম বয়সীদের মধ্যে ক্যান্সার বাড়ার পুরো কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কিংস কলেজ লন্ডন ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিয়ে একটি নতুন গবেষণা শুরু করেছে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় তরুণদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যান্সার বাড়ার পেছনে জীবনযাপনের ঝুঁকি ও রোগ শনাক্তকরণের ভূমিকা কতটা, তা বোঝার চেষ্টা করা হবে।
- বিষয় :
- ক্যান্সার
- গবেষণা
- তরুণ প্রজন্ম