ফ্লাইদুবাইয়ের সেই উড়োজাহাজ ভূপাতিতের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: এএফপি
টাইমস অব ইসরায়েল
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৩
দুই পাইলটের মারামারির তথ্য জানার পর ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজ ভূপাতিতের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইসরায়েল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছিল যুদ্ধবিমান। কিন্তু ফ্লাইটটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যাওয়ায় যুদ্ধবিমান আর ব্যবহার করা হয়নি।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। সূত্রগুলো জানায়, নাইন-ইলেভেনের মতো কোনো সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলে দীর্ঘদিনের একটি প্রোটোকল বা নিয়ম আছে। উড়োজাহাজটি হঠাৎ ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ার পর সেই প্রোটোকল মেনে ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি বৈঠক আহ্বান, কমান্ড সেন্টার স্থাপন ও যুদ্ধবিমান প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিজেদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল।
উড়োজাহাজটি ইসরায়েল থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরে থাকার সময় কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, সেটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যাচ্ছে। তখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোকে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করেছিল।
সূত্রগুলো সিবিএসকে জানায়, ফ্লাইটটি যদি ইসরায়েলের দিকে এগোতো এবং নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে চলে আসতো, তাহলে তদন্তের জন্য ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতো।
উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হতো। কারণ, উড়োজাহাজ ভূপাতিতের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কেবল প্রধানমন্ত্রীর।
সূত্রগুলো বলেছে, ছিনতাই হওয়া কোনো উড়োজাহাজকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, তেল আবিবের আজরিয়েলি টাওয়ার বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের ওপর আছড়ে পড়তে দেওয়ার চেয়ে আকাশে বিধ্বস্ত করাটা বেশি শ্রেয় বলে বিবেচনা করা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে দুই পাইলট মারামারিতে জড়ান। ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েকজন ক্রু ও যাত্রী ভেতরে ঢুকে হামামকে পরাস্ত করেন।
এরপর ফ্লাইটে যাত্রীদের মধ্যে ‘অফ-ডিউটিতে’ থাকা দুজন পাইলট উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে সেটি সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে।