ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জ্ঞান ফেরার পর কথা বলেছেন ক্রিস্টা পাইক, হাত নাড়াতে পারছেন না: আইনজীবী

জ্ঞান ফেরার পর কথা বলেছেন ক্রিস্টা পাইক, হাত নাড়াতে পারছেন না: আইনজীবী
×
×

ক্রিস্টা পাইক। ছবি: রয়টার্স

দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০১ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪৭

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর জ্ঞান ফিরে এলেও ক্রিস্টা পাইক তার ক্ষতিগ্রস্ত হাত দুটো নাড়াতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। হাত নাড়াতে না পারলেও তিনি কথা বলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার সময় সংশ্লিষ্ট কক্ষে থাকা সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির এক বিচারক।

বুধবার আইনজীবীরা জানান, দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন। গত বুধবার টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষ থেকে ৫০ বছর বয়সী পাইককে অচেতন কিন্তু জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে তাকে বারবিটুরেট জাতীয় ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হয়।

আইনজীবীরা জানান, সোমবার পাইককে ‘মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরদিন তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার প্রস্তুতির কথা তার আইনি দলকে জানানো হয়। তবে মঙ্গলবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাইক জেগে ওঠেন এবং কথা বলতে শুরু করেন।

তার আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘‘জ্ঞান ফেরার পর পাইকের প্রথম কথাগুলোর মধ্যে ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনারা কারা?’’

পাইক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আইনজীবীরা জানান, তিনি নিউমোনিয়া ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় ভুগছেন। তার হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো হাতই নাড়াতে পারছেন না। তার হাতের কার্যক্ষমতা কতটা ফিরে আসবে বা আদৌ ফিরে আসবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট। র‍্যান্ডি স্পাইভি জানান, পাইকের হাতগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো সার্জিক্যাল গ্লাভস বা দস্তানা ফুলিয়ে রাখা হয়েছে।

স্পাইভি বলেন, পাইকের মধ্যে এখনো বেশ মানসিক বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি জানতে চেয়েছেন আসলে কী ঘটেছে এবং বেশ কয়েকজনের খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি নিজের দলের সদস্যদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারের কথাও জানতে চেয়েছেন। সবকিছু নিয়ে পাইক এখন ‘ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত’।

পাইকের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য ন্যাশভিলে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত শুনানির পর জানা যায়। ওই শুনানিতে বিচারক আই’আশিয়া মাইলস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহ আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার সময় সংশ্লিষ্ট কক্ষে থাকা ‘যেকোনো কিছু’ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

পাইকের আইনি দল টেনেসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ গোপন করার অভিযোগ তুলেছে। আইনজীবী লুক ইহনেন বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওই চেষ্টার সময় ব্যবহৃত বা সেখানে থাকা সামগ্রীগুলো পাইকের ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ আবারও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করলে।

ইহনেন বলেন, পাইকের ওপর ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। তিনি বলেন, এখন যেসব প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের যেকোনো আইনি চ্যালেঞ্জের জন্য প্রাসঙ্গিক। জানুয়ারিতে তাদের পক্ষ থেকে একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।

লিথাল ইনজেকশন বা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে পাইককে ধারণা করা হয়। টেনেসির কর্মকর্তারা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করার সময় উচ্চ মাত্রার ঘুমের ওষুধ বা সিডেটিভ প্রয়োগ করেছিলেন।

আইনজীবীরা জানান, এমন শারীরিক অবস্থার মধ্যেও পাইককে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার পা ও ডান হাত শিকল দিয়ে বিছানায় আটকে রাখা হয়েছে। এর আগে বিচারক মাইলসকে আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তাদের জানা মতে চিকিৎসাকর্মীরা শিকল খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু টেনেসির কারা বিভাগ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আইনজীবীরা জানান, এ বিষয়ে আবেদনে সংশোধনী এনে পাইকের বাঁধন খুলে দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিকার হিসেবে চাইবেন।

আরও পড়ুন

×