সিইসির পদত্যাগ দাবি
টানা তৃতীয় দিন ভারতে বিক্ষোভ
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৩
ভারতের বিরোধী দলগুলো গতকাল বৃহস্পতিবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে। কংগ্রেস দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এসব বিক্ষোভ হয়। পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধন নিয়েও তারা প্রতিবাদ জানায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, বিরোধী দল, তাদের ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে। তাদের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিরোধীদের অভিযোগ, কুমারসহ সরকারের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভোটার তালিকা নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিতভাবে সংশোধন করা হয়েছিল। ওই সংশোধনের ফলে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারবিরোধী দলের তোলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত এই অসংগতি প্রথম সামনে আনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেখানে জানা যায়, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা না বলেই নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অতীতে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জোর সমালোচনা। পরে তা রূপ নেয় আন্দোলনে।
মোদির তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এসব বিক্ষোভ তাঁর সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কয়েক মাস আগেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময় নিজেদের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের বিক্ষোভের মুখে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মোদির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।
এএনআইয়ের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গানা রাজ্যে কংগ্রেসের কয়েক ডজন সমর্থক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যেও বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) একই ধরনের বিক্ষোভ আয়োজন করে। বেঙ্গালুরুতে সিজেপির শত শত সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন।
রাহুল গান্ধী ফের আটক
এদিকে, ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী গত বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশের হাতে অল্প সময়ের জন্য আটক হন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত মঙ্গলবার তাঁকে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে স্বল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল।
বুধবার রাহুল গান্ধী ও বিরোধী দলের অন্য আইনপ্রণেতারা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তরমন্তরের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস দলের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিরোধী দলের আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়।