ইমরান খানের মুক্তির দাবি
পাকিস্তানে পিটিআইয়ের মিছিলে উচ্ছ্বাস ও ক্ষোভ
ছবি-বিবিসি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০১
মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে জনসমুদ্র। পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত বুধবার থেকে ক্রমেই বড় আকার ধারণ করেছে সমর্থকদের বিক্ষোভ। সরকার এই বিক্ষোভ ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নিলেও বিরোধীদের এই শক্তি প্রদর্শন থামেনি।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গত রোববার ‘লংমার্চ’ শুরু করে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবির পাশাপাশি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন বিক্ষোভকারীরা। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এএফপিকে ৫৮ বছর বয়সী কালান্দার খান বলেন, আমি এই মিছিলে যোগ দিয়েছি একটাই কারণে– ইমরান খানের মুক্তি। তিনি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পরিস্থিতিতেই আমি ফিরে যাব না। সরকার ও ক্ষমতাসীন মহল যদি মনে করে তারা ইমরান খানকে সরিয়ে দিতে পারবে, তাহলে তাদের জানা উচিত, ইমরানের জায়গা আমাদের হৃদয়ে।
আমরা খানের সৈনিক: সোহেল আফ্রিদি
মিছিলের চতুর্থ দিনে পেশোয়ার শহরের দক্ষিণে সমবেত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে খাইবার পাখতুনখোয়ার পিটিআই মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি মাইক্রোফোনে চিৎকার করে বলেন, আমরা খানের সৈনিক। ইমরানের হাস্যোজ্জ্বল ছবিতে সজ্জিত প্রায় পাঁচ মিটার উঁচু একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে আফ্রিদি পিটিআইয়ের দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে কারাগারে ইমরানের জন্য চিকিৎসক, দলীয় নেতা ও স্বজনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।
ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থা
পুলিশের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় মিছিলের বহরে প্রায় এক হাজার ৫০০টি যানবাহন রয়েছে। এতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মিছিলটি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে রোববার শুরু হয়।
অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই বিক্ষোভ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে মিছিলটি এখনও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমানা অতিক্রম করেনি। ফলে বিক্ষোভ বন্ধে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।