ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কার

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার স্বীকৃতি

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার স্বীকৃতি
×
×

নাভানেথেম নাভি পিল্লাই

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:১৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নাভি পিল্লাই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ-সংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্বে আছেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নকেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায়। এ নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।

বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন নাভি পিল্লাই। দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ 

ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

নাভি পিল্লাইয়ের পরিচয় হিসেবে নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, তিনি ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর এই ক্ষেত্রের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাভি পিল্লাই এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে সমন্বিত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও নেতাকে জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। আশার সঞ্চার করেছেন সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে। দায়িত্ব পালনকালে বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নাভি পিল্লাই।

‘নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি!’

শান্তিতে নোবেল পাওয়ার খবরকে কৌতুক ভেবেছিলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। তাই তিনি কৌতুক করে বলেন, পুরস্কারটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস অসলোতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর ফ্রিডনেস হাসতে হাসতে বলেন, নাভি পিল্লাইর প্রতি আমার বার্তা হবে, আপনি যদি নরওয়েজীয় কোনো নম্বর থেকে ফোন আসতে দেখেন, তবে অনুগ্রহ করে ফোনটি ধরুন। আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিও পোস্ট করে জানান, নাভি পিল্লাইয়ের সঙ্গে তিনি জার্মানিতে আছেন। ক্যালামার্ড লিখেছেন, ‘আমরা সবাই ভীষণ রোমাঞ্চিত!’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক পূর্বসূরির নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়াকে মানবাধিকারের জন্য ‘সমষ্টিগত বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বড় বোন নাভি পিল্লাইকে এই দুর্দান্ত ও অসাধারণ পুরস্কারের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানাই।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দেন।

গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জানি না, তাদের (নোবেল কমিটি) সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে। আমার মতো মানুষদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না।’

অন্য বিভাগে যারা নোবেল পেলেন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে আবিষ্কারের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত।

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার ওষুধ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যধারার সঙ্গে সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির সাহসী ও অভিনব কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। আগামী মঙ্গলবার অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

 

আরও পড়ুন

×