ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন আম্বানি: ইলন মাস্ক

ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন আম্বানি: ইলন মাস্ক
×
×

ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানি। ছবি: সংগৃহীত

গালফ নিউজ

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৫

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিলম্ব নিয়ে দেশটির শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে সম্বোধন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা?। এর আগে ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের বাজারের আধিপত্য ধরে রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মাস্ক।

শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করবেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, আম্বানি ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থের চেয়ে নিজের বাজারের আধিপত্য বজায় রাখাকে গুরুত্ব দিতে পারেন।

মাস্কের মতে, স্টারলিংক ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে। এতে যেসব এলাকার মানুষ এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তারা উপকৃত হবেন। উন্নত সংযোগ শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রিতেও সহায়তা করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্টারলিংক জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন মাস্ক।

এর আগে বুধবার ভারতের ১১ হাজারের বেশি গ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকার বিষয়ে এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। অভিযোগের সপক্ষেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

বৃহস্পতিবারও স্টারলিংকের লাইসেন্স ও কার্যক্রম শুরুর বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মাস্ক। তিনি বলেন, ভারতের আইনি ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণে স্টারলিংক দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে। আম্বানি এই সেবা চালুর পথে বাধা দিচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তবে ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক— এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য সরকার সুষ্ঠু অনুমোদন কাঠামো তৈরি করেছে। স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে বলেও জানানো হয়।

ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেয়েছে। এগুলো হলো স্টারলিংক, ভারতী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। তবে স্টারলিংক লাইসেন্স পেলেও এখনো ভারতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আম্বানি-নিয়ন্ত্রিত রিলায়েন্স জিও এবং সুনীল ভারতী মিত্তালের নেতৃত্বাধীন ভারতী এয়ারটেল। ভারতে স্টারলিংকের সেবা বিতরণে সহায়তার জন্য ২০২৫ সালে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে আরও কিছু নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও স্পেকট্রাম বরাদ্দ প্রয়োজন।

স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। মাস্কের দাবি, প্রচলিত নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই প্রযুক্তি ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।

বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে স্টারলিংকের কার্যক্রম রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সরকার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালু করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের ওমান, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও ইয়েমেনেও এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য মাসে ৩০০ দিরহাম থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তবে সেবার ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন গ্রাহক নিবন্ধন প্রভাবিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×