ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অভ্যন্তরীণ চাপেই রাশিয়ার তেল কিনছেন ট্রাম্প

অভ্যন্তরীণ চাপেই রাশিয়ার তেল কিনছেন ট্রাম্প
×
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৮

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত তাঁর আগের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। যারা রাশিয়ার তেল কেনে, তাদের চাপে রাখতে কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি নতুন আইন প্রণয়ন করেছিলেন। সে আইন অনুযায়ী, রুশ তেল কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানো ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখন ট্রাম্প নিজেই দেশটি থেকে জ্বালানি আমদানি করছেন।

সম্প্রতি তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ডিজেল রপ্তানি করতে রাজি হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, জ্বালানির চড়া দাম এবং মূল্যস্ফীতি দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জীবন কঠিন করে তুলেছে, যার প্রভাবে ট্রাম্পের ওপর জনগণের আস্থা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প। বিবিসি বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার তেল কেনার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের সেই চাপকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়েছে কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে। এ কারণে কানসাস, টেক্সাস, ওহাইওর মতো রাজ্যগুলোর ভোটব্যাংক ডেমোক্রেটদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখছেন ট্রাম্প। বিপদ কাটাতে ফেডারেল কর স্থগিত এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত জ্বালানির দামে ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরানে নতুন হামলা না করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। নাগরিকদের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব কতটা গভীর, সেটি তাঁর এসব সিদ্ধান্তেই বোঝা যায়। বিবিসির খবর অনুযায়ী, সেই চাপেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

অবশ্য রাশিয়া কীভাবে জ্বালানি পাঠাবে এবং এর বদলে তারা কী সুবিধা পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ সুযোগে ট্রাম্পের মিত্র ও দেশের ভেতরের বিরোধীরা তাঁর সমালোচনা শুরু করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য উপহার হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া এর প্রতিদান দেবে সন্ত্রাস আর বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে।

তাৎক্ষণিক বড় স্বস্তির আশা নেই
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নির্বাচনে তাদের কতটা লাভ এনে দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তা ছাড়া রাশিয়ার তেল কবে নাগাদ বাজারে আসবে, তাও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার হয়। সে হিসাবে রাশিয়া এ মাসে তিন লাখ টন ডিজেল দিলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১২ ঘণ্টার চাহিদার সমান। ফলে তাৎক্ষণিক স্বস্তির আশা করছেন না বিশ্লেষকরা।

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন
সংঘাত বন্ধের জন্য ইরানের শর্তাবলি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে তাদের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছেন পুতিন।

এর আগে পুতিন ইরানি প্রেসিডেন্টকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, যুদ্ধ থামাতে মস্কো সব রকম চেষ্টা করবে। সেই আলোচনার পরদিনই ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি সামনে আনল ক্রেমলিন। সংকট নিরসনে রাশিয়ার মধ্যস্থতাকে ট্রাম্পও স্বাগত জানিয়েছেন।

‘ইসলামী শাসনতন্ত্র নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ইরানি সভ্যতার ওপর’
অ্যাথেন্সে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি। রুবিও প্রাচীন গ্রিক ও পারস্যের সংঘাতের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের উত্তেজনার তুলনা টেনেছিলেন।

বেলায়েতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা ইরানের শাসনব্যবস্থা নয়, বরং ইরানি সভ্যতার ওপরই তাদের ক্ষোভ। বেলায়েতি আরও বলেন, হিরোশিমা, ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানে যারা রক্তপাত ঘটিয়েছে, তাদের অন্য দেশকে নৈতিকতা শেখানোর অধিকার নেই।

‘আলি খামেনিকে হত্যা করা ভুল ছিল’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যা ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান। তিনি বলেন, খামেনি হয়তো ‘হত্যাযোগ্য’ ছিলেন, কিন্তু তাঁকে হত্যা করা ইসরায়েলের জন্য ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

২০০৩ সালে আলি খামেনি ফতোয়া দিয়ে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আলির মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ছেলে মোজতবা খামেনি। মনে করা হয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্নে তিনি বাবার চেয়ে বেশি আগ্রাসী।

আরও পড়ুন

×