দিল্লির আন্দোলন দমনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ বিক্ষোভকারীরা
ধরপাকড় ও গণপরিবহণ নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৩৯ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৪০
শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরেও আন্দোলন থেকে সরতে নারাজ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রোববার আবার যন্তর মন্তরে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর অন্তত ৩০টি জায়গায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
সিজেপি জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আন্দোলন দিল্লির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়বে। রোববার সকাল ৬টা থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কনট প্লেস, মণ্ডি হাউস, যন্তরমন্তর রোড, প্যাটেল চক, রেল ভবন ও আরএমএল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাস বা বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে পুলিশি ধরপাকড় এবং গণপরিবহণে বিধিনিষেধের ঘটনায় রোববার বিশেষ শুনানি করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। শনিবারের বিক্ষোভে বিরোধী নেতানেত্রী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটক করার পাশাপাশি মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার থাকার কথা। আদালতে দুটি পৃথক আবেদন উঠবে। একটি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে- ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লির সঙ্গে সংযোগকারী মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্য আবেদনটিতে বিরোধী নেতাদের আটক করার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ হয়েছে।
আরেকটি আবেদনে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন। তাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি তারা-কে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। ৯ অক্টোবরের নির্দেশে আদালতও জানিয়েছিল, প্রতিবাদের কারণে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা চলবে না।
গণআটকের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক একটি পিটিশন করেছেন তৃণমূল সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আবেদনকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করতে আগাম আটককে হাতিয়ার করা যায় না। রোববারের শুনানিতে এই অভিযোগগুলোরই বিচার করবে শীর্ষ আদালত।
- বিষয় :
- ভারত
- সুপ্রিম কোর্ট
- দিল্লি
- ককরোচ জনতা পার্টি