ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে স্বাগত জানালেন মেলঁশোঁ

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে স্বাগত জানালেন মেলঁশোঁ
×
×

জঁ-লুক মেলঁশোঁ। ছবি: এপি

এপি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:২২

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভকে স্বাগত জানিয়েছেন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ। রবিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে আন্দোলনরত হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছরে নামিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাছাইপ্রক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা বাতিলের আহ্বান জানান।

আগামী বছরের এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্লেরমঁ-ফেরঁতে সমাবেশ করেন মেলঁশোঁ। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ন্যাটো ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

স্কুল ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা, শিক্ষকের ঘাটতি এবং সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আন্দোলনটি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে আন্দোলন কয়েক দফায় সহিংস রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যসহ শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।

মেলঁশোঁর সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনী সুবিধা পেতে তার দল ‘ফ্রঁস আনবো’ আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তবে মেলঁশোঁ বলেছেন, আমার দল এই আন্দোলনের আয়োজক নয় এবং তিনি আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার পক্ষে।

রবিবারের সমাবেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানায় তার দল। মেলঁশোঁ তাদের আন্দোলনকে ‘উচ্চমানের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিপক্বতার’ পরিচায়ক বলে অভিহিত করেন। আন্দোলনকারীদের অনেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ৭৫ বছর বয়সী মেলঁশোঁ চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন।

মঙ্গলবার ও আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান আন্দোলনের মুখে সরকার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ কমাতে স্কুলের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

পূর্ব প্যারিসের একটি স্কুলে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান দুনিয়া জর্জিওন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, এই আন্দোলন তরুণদের ‘রাজনীতিতে প্রবেশের সূচনা’ করছে। তাঁর মতে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

রবিবার মেলঁশোঁ অবসরের বয়স ৬২ থেকে কমিয়ে ৬০ বছরে আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিশাল ঋণের বোঝা বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে তাঁকে ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে মেলঁশোঁ বলেন, ফ্রান্সের আরও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের জন্য আমরা আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের প্রাণ দিতে প্রস্তুত করছি না।’ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ন্যাটোর সদস্যপদকে ‘ফ্রান্সের স্বার্থের পরিপন্থী’ বলা হয়েছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে উন্নত আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও ইউক্রেনের কোনো উল্লেখ নেই।

এদিকে রবিবার ফ্রান্সের সোশ্যালিস্ট পার্টি ও তাদের মিত্রজোটের ভোটাররা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রাফায়েল গ্লুকসম্যানকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তবে বামপন্থীদের বিভাজন ও সাইবার হামলার কারণে প্রাথমিক নির্বাচনটি বিঘ্নিত হয়। সপ্তাহান্তে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন মধ্য-ডানপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ ও মধ্যপন্থী গ্যাব্রিয়েল আতাল। তাঁরা দুজনই প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×