ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নয়াদিল্লির সড়কে শত শত ব্যারিকেড, মেট্রো বন্ধ

নয়াদিল্লির সড়কে শত শত ব্যারিকেড, মেট্রো বন্ধ
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৪

ভারতের নয়াদিল্লিতে গতকাল সোমবারও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টিত রাজধানীতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা এটি। মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। দিনটিতে সড়কে শত শত ব্যারিকেড দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ ছিল।

বিক্ষোভকারীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে যান। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় ২৮ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী অভয় আরিয়ান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, কত বড় জনসমাগম হয়েছে। সরকারকে জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে হবে।’

সমালোচকদের দাবি, ভোটার তালিকার ব্যাপক সংশোধনের ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) লাভবান হতে পারে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখন পর্যন্ত অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মেহভাইশ নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, মোদি সরকারের করা ‘অবিচার’ তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘গত ১২-১৩ বছরে

আমরা যেসব অবিচারের শিকার হয়েছি, সেসবের কারণে আমরা এই সরকারকে সরিয়ে দিতে চাই। এখন যদি তারা আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেয়, তাহলে আমাদের আর কী থাকবে?’

মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকদের অভিযোগ, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার সময় মোদি সরকার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংকুচিত করেছে। তারা সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পুলিশকে ঘিরে নানা অভিযোগ

টানা তৃতীয় দিনের মতো গতকাল সোমবারও দিল্লির কেন্দ্রস্থলে হাজারো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সড়কে ভারী ধাতব ব্যারিকেড স্থাপন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। সোমবারের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সংবিধানের একটি কপি হাতে তুলে ধরেন। এ সময় জনতা উল্লাস প্রকাশ করে। পরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন তিনি।
সপ্তাহান্তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় আন্দোলনের সংগঠকসহ হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। আটক অধিকাংশ ব্যক্তিকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের তিনজন শীর্ষ নেতাও রয়েছেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ব্যাপক ধরপাকড়ের মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, রোববারের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ তাঁকে ‘ধাক্কা দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে এবং মারধর করেছে’। ব্রিটাস বলেন, ‘এটি শুধু একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা নয়। এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপরও হামলা।’

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে এবং বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও পুলিশ কোনো জবাব দেয়নি। বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকও তাদের প্রেস কার্ড স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা সত্ত্বেও আটকের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ডিজিটাল সাংবাদিক নিতিন কাটিয়ার টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকাকে বলেছেন, পুলিশ তাঁর চোখে ঘুষি মেরেছে। তবে এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলনে একত্র হয়েছে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী। ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ থেকেই তারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

যন্তর মন্তরকে ঘিরে নতুন সিদ্ধান্ত

এদিকে গতকাল সোমবার দিল্লি পুলিশ রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ করার স্থানের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এতে করে আর সেখানে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করতে পারবে না। তবে তাতে দমে যাননি আন্দোলনকারীরা। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির নেতারা।

সামাজিক মাধ্যমে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘মোদি যদি মনে করেন, যন্তর মন্তর কেড়ে নিলেই বিক্ষোভ বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে তিনি ভুল করছেন। যন্তর মন্তর শুধু একটি জায়গা নয়; এটি প্রতিরোধের এমন এক চেতনা, যা কেউ কখনও কেড়ে নিতে পারবে না।’

আরও পড়ুন

×