ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

করাচিতে ১৪৪ ধারা, খাইবার পাখতুনখোয়া এখনও থমথমে 

করাচিতে ১৪৪ ধারা, খাইবার পাখতুনখোয়া এখনও থমথমে 
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৮

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পর সেখানকার শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে সদ্য স্থগিত প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি, জাতীয় পরিষদের সদস্য জুনাইদ আকবর এবং প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার বাবর সলিম সোয়াতির নাম রয়েছে। 

গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী তাদের হেফাজতে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে। তবে পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক দমনপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আটক করে প্রাদেশিক প্রশাসনকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

ওই অঞ্চলে বর্তমানে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রাদেশিক সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে ১৪৪ ধারাও জারি করেছে প্রশাসন।

গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জরুরি অবস্থা জারির সুপারিশ করা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই সুপারিশে অনুমোদন দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করে কেন্দ্র। এ কারণে প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

পাখতুনখোয়ার প্রশাসনিক দায়িত্ব গভর্নরের হাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েছেন গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। তাঁকে সহায়তা করতে ১১ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পরিষদের প্রথম বৈঠকে গভর্নর সন্ত্রাসবাদ দমন ও জননিরাপত্তাকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের বিরোধী নেতারা। জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মেহমুদ খান আচেকজাই গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় খাইবার পাখতুনখোয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও বেলুচিস্তানের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করছে না। তিনি এ সিদ্ধান্তকে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
সেনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

আদালতে যাওয়ার ঘোষণা পিটিআইয়ের

কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। দলটির অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পেশোয়ার হাইকোর্টে আবেদন করবে পিটিআই। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আটক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংলাপের উদ্যোগে মাওলানা ফজলুর রহমান কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদগুলোতে জেইউআই-এফের আসন সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে দলটির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে সংসদীয় সমীকরণে দলটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংকট নিরসনে ফজলুর রহমানের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জেইউআই-এফের মুখপাত্র আসলাম ঘুরি জানিয়েছেন, ফজলুর রহমান দুই পক্ষকে সংলাপে বসানোর পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন। সংকট নিরসনে তিনি সংসদে সর্বদলীয় সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এবং পার্লামেন্টবিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে কোনো সমঝোতার প্রস্তাব দলের সব অংশের সমর্থন নাও পেতে পারে।

রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা পিলড্যাটের সভাপতি আহমেদ বিলাল মাহবুব মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান বজায় রেখে সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে ফজলুর রহমান আলোচনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।

আরও পড়ুন

×