‘ভোট চুরি’র অভিযোগ
রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি, আদালত ফি কম ২২০ রুপি
সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে যাত্রায় রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের নেতারা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৩৮ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:২৭
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার (ইন্ডিয়া ব্লক) একাধিক নেতার দায়ের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি পেয়েছে আদালতের রেজিস্ট্রি অফিস। এর মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়া, নয়জন আবেদনকারীর অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি জমা দেওয়া।
সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
নির্বাচনী অনিয়ম ও ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এ আবেদন করা হয়। একই দিন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে কংগ্রেস নেতারাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
আদালতের রেজিস্ট্রি আবেদনে বেশ কয়েকটি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু ‘ওকালাতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের লিখিত অনুমোদনপত্র জমা না দেওয়া, খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট কপি না থাকা, নথির ফন্ট ছোট হওয়া এবং দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া কিছু নথির লেখা অস্পষ্ট বা পড়ার অনুপযোগী, কয়েকটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা নিয়ে সমস্যা এবং পৃষ্ঠার নম্বরের অসংগতিও পেয়েছে রেজিস্ট্রি।
আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত, সিপিআই নেতা ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, সিপিআইএমের এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেতা ই টি মোহাম্মদ বশির।
আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই), প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে।
আবেদনে ১০ দফা দাবি
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ শিরোনামে আবেদনটি তালিকাভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি আবেদনের বিস্তারিত তথ্যও হাতে পেয়েছে।
আবেদনে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের নেওয়া অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিষয়ে ১০ ধরনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি ও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবেদনকারীদের অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে নিরীক্ষা চালানোর দাবিও জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
সোমবার দিল্লিতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিরোধী নেতারা মিছিল করেন। এ সময় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ইমরান প্রতাপগড়ি ও দীপেন্দর সিং হুডা, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। তাদের একটি অংশ বাসে করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যান।
বিকেলে রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর আগে কংগ্রেসের আইনজীবী দল আদালতে আবেদনটি জমা দেয়।
এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিরোধী জোট। বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথিত ভোট চুরির অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর বন্ধ এবং কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ পুনরায় চালুর দাবিও জানাতে চেয়েছিলেন তারা।
তবে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি।
এর আগে বিরোধী নেতারা কীভাবে তাদের অভিযোগ আদালতের কাছে তুলে ধরতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক হোক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সবার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা।
- বিষয় :
- কংগ্রেস
- ভারত
- সুপ্রিম কোর্ট