যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে হুতিরা: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
আল–জাজিরা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৬ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে হুতিরা সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করছে। মঙ্গলবার তিনি হুতিদের আচরণকে ‘খুবই খারাপ’ বলে মন্তব্য করেন এবং নভেম্বরের নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা জোরদার করার হুমকি দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হুতিরা দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইরানের ইশারায় গোষ্ঠীটি নতুন করে তৎপর হয়েছে। ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নেই, অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় এবং মূল্যস্ফীতির হার ৩০১ শতাংশ। ট্রাম্প আরও বলেন, হুতিরা সৌদি আরবে অত্যন্ত জঘন্যভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি মোটেও ভালো নয়।
ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না।
ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে তার আইন প্রণয়ন ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা।
ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবে হুতিদের হামলার কথা তিনি ‘কখনোই ভুলবেন না’। তার বক্তব্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিষয়ে এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘কারও তাদের (হুতিদের) বুঝিয়ে বলা উচিত, আমি নির্বাচনে লড়ছি না। আমি ইতোমধ্যে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছি। তবে নির্বাচনের পরও আমি সেখানে থাকব এবং বিষয়টি কখনোই ভুলব না।’
জনমত জরিপেও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। এপি-এনওআরসি পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, এই যুদ্ধ শুরুর পক্ষে যথেষ্ট যৌক্তিকতা ছিল না।
তবে ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে যাওয়া জনমত জরিপগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক জনসভাগুলোতে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।