আলাস্কা পাইপলাইন প্রকল্প থেকে ৩০% গ্যাস কিনবে তাইওয়ান: ট্রাম্প
ছবি: চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি
রয়টার্স
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫২
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় প্রস্তাবিত পাইপলাইন প্রকল্প থেকে ৩০% তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে তাইওয়ান সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে চুক্তির শর্তাবলি কিংবা চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
মঙ্গলবার আলাস্কায় রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির আয়োজিত এক জনসভায় ট্রাম্প এ কথা বলেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, তাইওয়ান পাইপলাইন প্রকল্পের উন্নয়নে ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তাইওয়ানের জ্বালানি নীতির দায়িত্বে থাকা অর্থনীতি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই বলেন, অন্য দেশের সরকারের মতো তাইওয়ানেরও দায়িত্ব হলো পুরো জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং এর সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো।
ফেব্রুয়ারিতে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বাড়ানো হবে। এর ফলে চলতি বছর দ্বীপটির মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত বছর তাইওয়ানের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি সিপিসি করপোরেশন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা গ্যাসলাইন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে এলএনজি কেনা ও পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। আলাস্কার গভর্নর সে সময় জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটি থেকে বছরে ৬০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার বিষয়ে তাইওয়ান একটি আগ্রহপত্রে স্বাক্ষর করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছিলেন, এ বিনিয়োগ দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি মেট্রিক টন এলএনজি রপ্তানি করা সম্ভব হবে। গত বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাসচিব প্যান মেন-আন আলাস্কায় প্রকল্পটির প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এশীয় মিত্রদের জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এখন পর্যন্ত এশীয় ক্রেতা এবং ফ্রান্সের জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসের সঙ্গে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা বা চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস সরবরাহের চুক্তি প্রয়োজন। এসব চুক্তিকে চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক চুক্তিতে রূপ দেওয়াও জরুরি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানামা খাল কিংবা আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা ঘুরে না গিয়ে সরাসরি এশিয়ার বাজারে এলএনজি পাঠানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহনের সময় ও খরচ কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে দেশটি জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়া আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইনে বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে। তবে সিউল জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
- বিষয় :
- তাইওয়ান
- গ্যাস
- চুক্তি
- যুক্তরাষ্ট্র
- ডোনাল্ড ট্রাম্প