স্বামীকে হত্যার পর ড্রামে ঢুকিয়ে সিমেন্টের ঢালাই, স্ত্রী ও তার প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
সৌরভ রাজপুত, মুসকান রাস্তোগি ও সাহিল শুক্লা। কোলাজ: আনন্দবাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৯:৫৯ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৬
ভারতের মিরাটের একটি স্থানীয় আদালত মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুতকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং স্ত্রীর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করার পর বুধবার এই সাজা ঘোষণা করা হয়। ১২৬টি শুনানি এবং ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র এই রায় দেন।
খুনের পর সৌরভের দেহ লুকোনোর জন্য দেহের খণ্ডিত অংশগুলোকে নীল ড্রামে ঢুকিয়ে সিমেন্ট ঢেলে দেন আসামিরা। হত্যা মামলার প্রমাণ হিসেবে কংক্রিটে ভরা এই ড্রামটি আদালতে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ মিরাটের ইন্দ্রা নগরের বাড়িতে স্ত্রী মুসকান খাবারে ওষুধ মিশিয়ে সৌরভকে অজ্ঞান করেন। এরপর প্রেমিক সাহিল সেখানে পৌঁছালে দুজন মিলে সৌরভকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। বাথরুমে লাশ টুকরো টুকরো করার পর দুর্গন্ধ ঠেকাতে তারা খণ্ডিত দেহাংশগুলো একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ড্রামে ভরে বালি, পানি ও সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে সেটি আটকে করে দেন।
হত্যার পর এই যুগল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। সৌরভ বেঁচে আছেন এবং ব্যবসার কাজে বাইরে আছেন—এমন ‘নাটক’ তৈরি করতে মুসকান তার স্বামীর ফোন ব্যবহার করে স্বজনদের মেসেজ পাঠাতেন। সন্দেহ হওয়ায় ১৭ মার্চ স্বজনরা স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে ওই বাসভবনে যান। এ সময় সৌরভ ও মুসকানের ছয় বছর বয়সী মেয়ে প্রতিবেশীদের জানায়, ‘বাবা ড্রামের ভেতর।’ পরে পুলিশ ড্রামটি কেটে দেহাবশেষ উদ্ধার করে। দুদিন পর ঘাতক স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ পারিপার্শ্বিক, প্রযুক্তিগত ও ভৌত প্রমাণের একটি শক্তিশালী শৃঙ্খল উপস্থাপন করে। স্থানীয় দোকানদাররা খুনিদের কাছে নীল ড্রাম, সিমেন্ট, বালি ও মাংস কাটার ছুরি বিক্রির সাক্ষ্য দেন। এছাড়া মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান ও কল রেকর্ডে অপরাধের সময় সাহিলের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়।
রায়ের আগে মুসকানের বাবা-মা আদালতকে জানান, নিহত সৌরভ একজন ‘খুব ভালো মানুষ’ ছিলেন এবং দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। গ্রেপ্তারের পর মুসকানের পরিবার কারাগারে কখনোই তার সঙ্গে দেখা করেনি।
সূত্র: এনডিটিভি।