স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের আগে ঐক্যের ডাক মার্ক কার্নির
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: সংগৃহীত
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:০৭
কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে চলছে আগাম ভোট, অন্যদিকে প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ক্যালগেরিতে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এই সময়ে কানাডার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে আগাম ভোট শুরু হয়েছে, যা চলবে শনিবার পর্যন্ত। সোমবার চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ব্যালটে রয়েছে ১০টি প্রশ্ন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো— আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
এবারের ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নতার পক্ষে ভোট পড়লেও আলবার্টা তাৎক্ষণিকভাবে কানাডা থেকে আলাদা হয়ে যাবে না। বরং পরবর্তী গণভোট আয়োজনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিচ্ছিন্নতার প্রশ্ন ছাড়াও অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাদেশিক ক্ষমতা ও সংবিধানসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ভোট নেওয়া হচ্ছে।
গণভোটকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ক্যালগেরিতে ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি আলবার্টার বাসিন্দাদের কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিভক্তির পথে না গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কার্নি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধের প্রেক্ষাপটে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিভাজন নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ আলবার্টা ও কানাডার অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রদেশটির ফেডারেল নীতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা, অভিবাসন ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে দর-কষাকষির জন্য প্রদেশের আরও শক্তিশালী অবস্থান প্রয়োজন। এ কারণে গণভোটের অন্য প্রস্তাবগুলোর প্রতি তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কানাডার সঙ্গে থাকা না-থাকার প্রশ্নে কার্নি ও স্মিথের অবস্থান কাছাকাছি হলেও বাকি নয়টি প্রশ্নে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদ, রাজস্ব এবং ফেডারেল সরকারের নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের সমর্থকেরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। ফলে এই গণভোট কেবল প্রাদেশিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং কানাডার ফেডারেল কাঠামো ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ২৯ অক্টোবর।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- কানাডা
- গণভোট