ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কলকাতা

পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে মৃত্যু বেড়ে ১৯, গ্রেপ্তার ৭

পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে মৃত্যু বেড়ে ১৯, গ্রেপ্তার ৭
×
×

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্বজনদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৮

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনার ঘটনায় ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। রোববার দুপুর পর্যন্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছিল। এদিকে পূজামণ্ডপের আশপাশের এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), মিঠু মণ্ডল (৪৫), আকৃতি কুমারী (১৭), বর্ণালী হালদার (১৭), শুভম শঙ্কর (৩৩), আরতী সরকার বিশ্বাস (৪৫), টগর বেজ (৩৭), তানিয়া বিশ্বাস (১৮), কল্পনা জানা (৪৬), বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালী প্রামাণিক (২৫), প্রিয়া সমাদ্দার (১৮), প্রাঞ্জল সরকার (১৩), দিলীপ ঘোষ (৫৯) ও দিপালী ঘোষ। দিলীপ ও দিপালী ঘোষ সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এ ছাড়া বিহারের একই পরিবারের দুই সদস্য অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব (৭) নিহত হয়েছেন।

পুলিশি ঘেরাটোপে মুড়ে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান পূজামণ্ডপ। কাউকে মণ্ডপ চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দুর্ঘটনার জন্য আয়োজকদের দায়ী করছেন। এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘পূজার উদ্বোধনের পর থেকে এখানে বিপুল ভিড় হচ্ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও আয়োজকেরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো কয়েক মিটার অন্তর দড়ি ফেলে ভিড় আরও বাড়ানো হচ্ছিল।’

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা সরকারি পুলিশকর্মী, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ও ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকদের স্থানীয় থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কলকাতা পুলিশ। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ মিলিয়ে দেখা হয়। এরপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেন বিশেষ টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- চোরবাগান ক্লাবের সম্পাদক ও সহসভাপতি, বাঁশের খুঁটি প্রস্তুতকারী, ভিআইপি পাস যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ক্লাবের এক সদস্য এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের দুই ইনচার্জ।

মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে এককালীন ২৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজনকে রাজ্য সরকারের গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত ব্যক্তিদের এককালীন পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসার সব খরচ বহনের কথাও জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে ইএম বাইপাসসংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জানান, তাঁদের মধ্যে একজন বাদে বাকি ১৩ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে আহতদের সরকারি হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

এদিকে চোরবাগানের দুর্ঘটনার মধ্যেই শনিবার কলকাতায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আহত ১৪ জনকে দেখতে তিনি অ্যাপোলো হাসপাতালে যান। তবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মধ্যেও শাহকে শহরে ব্যাপক আয়োজন করে স্বাগত জানানোর ঘটনায় বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ঢাকের বোল ও লোকশিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘অমিত শাহকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন। কী লজ্জাজনক বৈপরীত্য! একদিকে যখন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে এবং পরিবারগুলো প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকস্তব্ধ, তখন বিজেপির নেতারা কীভাবে উৎসব করতে পারেন? সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একই তৎপরতা কোথায় ছিল?’

দলটির পক্ষ থেকে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘পুলিশের মোতায়েন শাহের নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে এতটাই কেন্দ্রীভূত ছিল কি না যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।’ চোরবাগানের পূজার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক ভাইপো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বলে তৃণমূলের করা দাবির বিষয়েও রোববার সরব ছিল দলটি। তৃণমূলের প্রশ্ন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপোকে কবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে?’

আরও পড়ুন

×