ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’, নেতানিয়াহুর ভাগ্য কি আরবদের হাতে?
ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ইয়োয়াভ সেগালোভিৎসের সঙ্গে রাআম দলের নেতা মনসুর আব্বাস (ডানে)। ফাইল ছবি: এএফপি
আল জাজিরা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৫৪ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০৪
ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হতে যাচ্ছে আরব নেতৃত্বাধীন দল ‘রাআম’ ও রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দলগুলোর সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দল দুটি একত্রে ১৩টি আসন জিততে পারে।
রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট উভয়ই ইসরায়েলে বসবাসরত আরব ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। আগামী ২৭ অক্টোবরের ভোটে তারা কাঙিক্ষত আসন পেলে, সরকার গঠনের জোট তৈরিতে ‘ফ্যাক্টরে’ পরিণত হবে। সেক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ সম্ভবত মূখ্য বিষয় হবে না।
রাআম আগেও সরকার গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। ২০২১ সালে নেসেটে (পার্লামেন্ট) বহুদলীয় একটি জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। রাআম সেই জোটের অংশ ছিল। এ ঘটনার আগে দলটির নেতা মনসুর আব্বাসের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সরকার গঠনের আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু আব্বাস সেটি না করে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেন।
এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রধানত তিনটি শিবিরে বিভিক্ত। প্রথমটি নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থি জোট। দ্বিতীয়টি গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদদের জায়নবাদী বিরোধী ব্লক। তৃতীয় শিবিরে আছে জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম-এর মতো দল।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কট্টর ডানপন্থি ও জায়নবাদ বিরোধীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। কোনো পক্ষেরই ১২০ আসনের নেসেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে তৃতীয় শিবিরের দলগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে।
চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন হলে নেতানিয়াহু এক মুহূর্তের মধ্যেই রাআম-এর সঙ্গে কাজ করবেন।’
তবে নির্বাচনের আগে বিরোধীদের বিষয়ে লিকুদ পার্টি কঠোর ভাষার আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। তাদের মতে, নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হলে ইয়াশার দলের নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সম্ভাব্য সরকারে আরব দলগুলো ‘কিংমেকারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।
লিকুদের নির্বাচনী প্রচারের একটি স্লোগানে বলা হয়েছে, ‘তিবি ছাড়া গাদি নেই।’ এখানে তিবি বলতে তা’আল দলের নেতা আহমাদ তিবিকে বোঝানো হয়েছে। তা’আলসহ হাদাশ ও বালাদ- এই তিনটি দল নিয়ে জয়েন্ট লিস্ট গঠিত।
এই জোট বলেছে, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে তারা এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় দিতে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ, আস্থা ভোটে তারা বিরোধী জোটের বিপক্ষে দাঁড়াবে না। বিনিময়ে কিছু শর্ত দাবি করবে, যার মধ্যে আছে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা।
অপরদিকে রাআমের এজেন্ডায় আছে, ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধ মোকাবিলা ও বৈষম্যমূলক সরকারি নীতির সমাধান। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি ইতোমধ্যে ধর্মীয় রক্ষণশীল অবস্থান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তাই রাআমকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দল হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেকেলবার্গ। তিনি বলেন, ‘মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বে রাআম সুবিধাবাদী দলে পরিণত হয়নি। বরং প্রতিনিয়ত নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরছে।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর ইসরায়েলে এটি প্রথম নির্বাচন। ওই ঘটনার পর গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ইসরায়েলের রাজনীতিতে ডানপন্থায় মোড় নেওয়ার গতি ত্বরান্বিত করেছে। ডানপন্থিরা ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছে।
এক সময় রাআমের সঙ্গে সরকার গঠনের জন্য গত মে মাসে ক্ষমা চান ‘বেনেট’ দলের নেতা নাফতালি বেনেট। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঠেকাতে পিটিশন দায়ের করে লিকুদ ও ওতজমা ইয়েহুদি পার্টি। পরে দল দুটি অযোগ্য ঘোষিত হয়। কিন্তু ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্তটি বাতিল করেন।
এ নিয়ে জয়েন্ট লিস্টের দল হাদাশের নেতা ওফার কাসিফ আল জাজিরাকে বলেন, এটি বিচারিক সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। কারণ, সরকার গঠনে আমাদের প্রয়োজন হতে পারে।
- বিষয় :
- নির্বাচন
- ইসরায়েল
- বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু