সিএনএনের বিশ্লেষণ
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে যেসব সংকটে পড়বেন ট্রাম্প
ছবি- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা ও নীতির ওপর চাপ তৈরির সুযোগ পাবে ডেমোক্রেটিক পার্টি। সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তদন্ত এবং ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিগুলো পর্যালোচনার ক্ষমতা পেতে পারে দলটি। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং রিপাবলিকানদের সহযোগিতা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সীমাবদ্ধতা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে দেখতে চান– এমন প্রশ্নে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের পছন্দ বিবেচনায় নিলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াই কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন ১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে।
বাড়বে দরকষাকষির ক্ষমতা
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হবে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইন। সরকারের কার্যক্রম চালু রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া বা শর্ত আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন তারা।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবা
নিত্যপণ্যের দাম, বাসা ভাড়া, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। প্রতিনিধি পরিষদে দলের নেতা হাকিম জেফরিস আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা, গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে রিপাবলিকানদের করা কাটছাঁট প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত
প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটদের প্রধান পদক্ষেপ হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তদন্ত। শুনানি আয়োজন ও সাক্ষীদের তলব করার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি চাইতে পারবেন।
ইলন মাস্কের নেতৃত্বে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ, তাঁর কোম্পানিগুলোকে দেওয়া সরকারি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি, কনজুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, শুল্কনীতি, অভিবাসীদের ব্যাপক বহিষ্কার এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও শুনানি হতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহি করতে হতে পারে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়বে চাপ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে কংগ্রেসে দুই দলেরই সমর্থন রয়েছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে বাধ্য করা সহজ হবে না। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প প্রশাসন আইনি বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার পথ খুঁজেছে।
ক্রিপ্টো শিল্পের প্রভাব ও নির্বাচনের অনিশ্চয়তা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের ব্যয়ও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো এ নির্বাচনে ১৭৬ মিলিয়ন ডলারের মতো ব্যয় করেছে। কংগ্রেসে নিজেদের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে প্রভাব বিস্তারই তাদের লক্ষ্য। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ক্রিপ্টো খাতের নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট পাসের পথ আরও কঠিন হতে পারে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য জয় নিশ্চিত নয়। জরিপে এগিয়ে থাকলেও ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের হিসাব এবং রিপাবলিকানদের শেষ মুহূর্তের প্রচার ফল পাল্টে দিতে পারে। ফলে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কতটা ক্ষমতা পাবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটের ফলই।
- বিষয় :
- ট্রাম্প
- ডেমোক্র্যাটিক পার্টি