ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল, ইসরায়েল শক্তিশালী: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

‘ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে’

ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল, ইসরায়েল শক্তিশালী: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
×
×

প্রথম বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে কথা বলছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:৫৪ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরান থেকে আসা অস্তিত্বের হুমকি চিরতরে দূর করার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল এবং ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী।

নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলে একটি শক্তিশালী, জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে। তার মতে, দেশটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় এ ধরনের সরকারের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একটি শক্তিশালী, জাতীয়, ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে। এটাই করতে হবে।’

নির্বাচনে তার দল লিকুদ সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ডানপন্থি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো জোটকে তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ইরান থেকে আসা অস্তিত্বের হুমকি চিরতরে দূর করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল একটি ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থেকে ইসরায়েলকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হতে দেওয়া যাবে না।

‘ইরান আগের চেয়ে দুর্বল, ইসরায়েল শক্তিশালী’
বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সাফল্যের কথা তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সাহসী সিদ্ধান্ত, জনগণের দৃঢ় অবস্থান এবং সেনাদের অবদানে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে গেছে।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামাসের সামরিক নেতা মোহাম্মদ দেইফ, সংগঠনটির সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ ও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তারা সফলভাবে হত্যা করেছেন।

এ ছাড়া গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বের হুমকি ও ধ্বংসের আশঙ্কা অনেকটাই দূর করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ইরানের শাসনব্যবস্থায় আঘাত হেনেছি এবং তাদের খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছি। ইরান এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল, ইসরায়েল যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

তবে সামরিক সাফল্যের কথা বললেও ইরানের হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সতর্ক করেন তিনি। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলে তারা আবারও ইসরায়েলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই হুমকি স্থায়ীভাবে দূর করার ওপর জোর দেন তিনি।

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা
নির্বাচনে আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং সরকার গঠনে তাদের সম্ভাব্য নির্ধারক ভূমিকার বিষয়টিও উঠে আসে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ইহুদি ও ইহুদিবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থি ব্লকের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। 

তার দাবি, এই রাজনৈতিক বাস্তবতা একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের পক্ষে জনসমর্থনের প্রতিফলন।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে এবং দেশটির সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধী বলে—এমন আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তার মতে, এ ধরনের জোটের ধারণাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের ইহুদি ও ইহুদিবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেবল এভাবেই দেশটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব।

‘লিকুদই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল’
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফল পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই লিকুদকে ইসরায়েলের বৃহত্তম দল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যম নির্বাচনের আগে লিকুদের আসনসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর ধারণা ছড়িয়েছিল। এর ফলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রথম যে বিষয়টি দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল। এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।’

তিনি আরও দাবি করেন, ইহুদি রাষ্ট্র ও ইহুদিবাদকে সমর্থনকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থি ব্লকের নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এ কারণেই একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও তুলে ধরেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে পুলিশ ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাআম সাতটি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও তার শরিকদের আসনসংখ্যা ছিল ৪৮।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু ভোট গণনার ওই পর্যায়ে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল। 

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×