ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে ভারতের ওপরও
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫৪
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দেশটিতে কে সরকার গঠন করছে, তার প্রভাব ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের আসনসংখ্যা ৫৩। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ, যা রেকর্ড বলে ধরা হচ্ছে।
কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ইসরায়েলকে আবার নির্বাচনে যেতে হবে। নেতানিয়াহু ব্যর্থ হলে আসনসংখ্যার হিসাবে আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে। বিরোধী জোটের ৪৮ আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯ আসন যোগ করলে মোট আসন দাঁড়ায় ৬৭। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন।
আরব দলগুলোর এবারের রেকর্ডসংখ্যক আসন ইসরায়েলের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মহলের একাংশ তাদের ক্ষমতার বলয়ের বাইরে রাখতে চায়। নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান, দুজনই আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হলেও ইসরায়েলের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে। সাবেক ইসরায়েলি সেনাপ্রধান আইজেনকোট ইরান ও হামাসের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বিরোধী তিনি। নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার মূল মতপার্থক্য দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা নিয়ে।
ভারতের জন্য ইসরায়েলের নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আর শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানিব্যবস্থাপনা, মহাকাশ গবেষণা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। তবে আগামীতে এই সম্পর্কের ধরন বা কূটনৈতিক ভাষায় পরিবর্তন আসতে পারে। আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে পারে ইসরায়েল। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে নতুন সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান সহযোগিতার গতি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে।
ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভারতের জন্য বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের সম্পর্কও আছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন।
ভারতকে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে হবে, অন্যদিকে আরব দেশ ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
- বিষয় :
- মোদি
- নেতানিয়াহু
- ইসরায়েল
- ভারত