ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

চুরি করা ক্রিপ্টো গরম আলুর মতো, বেশিক্ষণ হাতে রাখা যায় না: হ্যাকার

চুরি করা ক্রিপ্টো গরম আলুর মতো, বেশিক্ষণ হাতে রাখা যায় না: হ্যাকার
×
×

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

সিএনএন

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:৩৭ | আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৩:৪৬

ক্রিপ্টো বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের সিস্টেম থেকে গত বৃহস্পতিবার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের কারেন্সি চুরি হয়। এর পেছনে উত্তর কোরিয়া জড়িত বলে প্রমাণ মিলেছে। প্রশ্ন হলো চুরি করা ক্রিপ্টো দিয়ে একজন হ্যাকার কী করেন?

এ বিষয়ে জানতে ইলিয়া লিচটেস্টাইনের সঙ্গে কথা বলেছে সিএনএন। তিনি সেই কুখ্যাত হ্যাকার যিনি ২০১৬ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটফিনেক্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থ পাচারের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী হিদার মরগানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ৪৫০ কোটি ডলার পাচার করতে চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে নিজের যুক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।

২০২৪ সালে লিচটেনস্টাইনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি মুক্তি পান। এখন তিনি সাইবার হামলা ঠেকাতে ‘হোয়াইট হ্যাট’ হ্যাকার হিসেবে কাজ করছেন।

লিচটেনস্টাইনের সঙ্গে সিএনএনের কথোপকথনের একাংশ তুলে ধরা হলো:

বাইন্যান্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে আমরা যা জানছি, সেগুলো নিয়ে আপনার ধারণা কী?
লিচটেনস্টাইন: এটি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের চিরাচরিত কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। সাধারণত তারা সবচেয়ে দুর্বল জায়গাটিকে লক্ষ্য করে। তারা সরাসরি বাইন্যান্স ডটকম ওয়েবসাইটে হামলা চালাবে না। কারণ সেখানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। তবে এমন কোনো কর্মী থাকতে পারেন, যিনি ফিশিং হামলার ঝুঁকিতে ছিলেন। প্রতারণার মাধ্যমে তাকে কোনো ভাইরাস ডাউনলোড করানো হতে পারে।

আমার মনে হয়, যারা সাইবার হামলা প্রতিরোধের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদেরকে পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে দুর্বল জায়গাটি বুঝতে হবে। শুধু সামনের দরজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে হবে না। সব প্রবেশপথ, দরজা ও জানালার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

একসময় আপনি নিজেই কয়েক কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছিলেন। বাইন্যান্সে সাম্প্রতিক হ্যাকিংয়ের ঘটনায়ও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোনো হ্যাকার একটি এক্সচেঞ্জে ঢুকে বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন চুরি করার পর কী ঘটে?
লিচটেনস্টাইন: ওই বিটকয়েনের ওপর অনেকের নজর থাকে। ব্লকচেইনে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে দেখা যায়। যে কেউ তা অনুসন্ধান করতে পারে। বর্তমানে ব্লকচেইন বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিও আছে।

আমরা দেখেছি, টেথার বা ইউএসডিটির মতো অনেক ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের অর্থ জব্দ করার সক্ষমতা আছে। তাই হ্যাকারদের খুব দ্রুত চুরির অর্থ লেনদেনের সূত্র আড়াল করতে হয়। অর্থের গতিপথ অস্পষ্ট করতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে একাধিকবার স্থানান্তর করতে হয়। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে, ধরা পড়ার আগেই বা অর্থ জব্দ হওয়ার আগেই চুরি করা অর্থের অন্তত একটি অংশ সরিয়ে ফেলা। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপেই তাদের বড় ধরনের ঝুঁকি থাকে।

তাহলে বিষয়টা কি এমন যে, তারা জাল নোট হাতে নিয়ে ঘুরছে, আর সবাই জানে সেগুলো আসল নয়?
লিচটেনস্টাইন: তাদের হাতে এগুলো অনেকটা এক টুকরো গরম আলুর মতো। তাই খুব দ্রুত ওই অর্থ সরানোর চেষ্টা করতে হয়। কোনোভাবে চুরি করা অর্থ বৈধ অর্থে রূপান্তর করতে হয়, অথবা এমন বিপুল পরিমাণ অর্থের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতে হয়, যাতে কোনটি জাল আর কোনটি আসল, তা বোঝা না যায়। কাজটি তাদের জন্য খুবই কঠিন। আমার মনে হয়, তারা (উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার) বেশ বিপাকে আছে।

একসময় আপনিও এমন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। সেই অর্থ কীভাবে সামলেছিলেন?
লিচটেনস্টাইন: এ ধরনের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা খুব কঠিন। অনেকে হয়তো বিশ্বাস করবে না, কিন্তু সত্যটা হলো- অর্থের প্রতি আমার খুব বেশি আগ্রহ ছিল না। আমি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলাম। তাই চুরি করা বিটকয়েনের খুব সামান্যই খরচ করি। আদালতের নথিতেও তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

আরও পড়ুন

×