ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কানাডার বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কানাডার বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে
×
×

ছবি: সংগৃহীত

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:১৬ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৪২

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে কানাডার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার সঙ্গে চলমান শুল্ক বিরোধে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কানাডার অপ্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

কানাডার সংসদীয় বাজেট কর্মকর্তার (পার্লামেন্টারি বাজেট অফিস) ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের কারণে কানাডীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের বাণিজ্য-ভারযুক্ত কার্যকর গড় হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকলে কানাডার প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান কমতে পারে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার। তবে এটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফলাফল নয়।

শুল্ক বিরোধের প্রভাব পড়তে পারে কানাডার গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কৃষি ও জ্বালানি খাতে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে পারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

তবে নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনাও রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলেই শুল্ক প্রত্যাহার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নির্বাচনের ফল নয়, এর পরবর্তী বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তগুলোই কানাডার অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা হলে কানাডার রপ্তানি ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, শুল্ক বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে দেশটির অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×