ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
×
×

ইরানের উপকূল ও কেশম দ্বীপ। ফাইল ছবি- রয়টার্স

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ০১:০৩

ইরানের কেশম দ্বীপে গত সোমবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতের মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো। হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে চালানো এ হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে মার্কিন একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো গুলির জবাবে এ হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।

গত সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে। আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের বাহিনী দ্বীপটির দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুদ্ধ ও এর ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এভাবে হোক বা অন্যভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। আমরা এরই মধ্যে তাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি।’

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূগর্ভের স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ হামলা বড় কোনো বিষয় নয়, এক ঘণ্টার মধ্যেই তা করা সম্ভব। তবে নির্বাচনের পর ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে কিনা– এমন প্রশ্নে নেতিবাচক উত্তর দেন তিনি। তবে এপির খবর জানিয়েছে, নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইরানের কঠোর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে আগের তুলনায় আরও কঠোর ও বিস্তৃত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সংঘাতের পরিসর শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও স্বার্থ, ইরানের নাগালের মধ্যে যা থাকবে, সবই লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। 

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান, যেখানে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। সম্প্রতি ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তেহরানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চার দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। আরাঘচি জানান, তেহরানের শর্তগুলো পূরণ করার পরদিনই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে। শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তেহরান দ্রুত একটি সমাধান চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। গত সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সমঝোতার বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প আশাবাদী।

সংঘাত থামাতে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতি জোরদার চীনের

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন। বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে তারা নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথেয়তা দেন। আলজাজিরা।

আরও পড়ুন

×